দ্য পিপল ডেস্কঃ মুর্শিদাবাদে ক্রমশ অবনতি হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতির। গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধির ফলে ফরাক্কা ব্লকের খোদাবন্দপুর, সাঁকোপাড়া ও মমরেজপুরে বন্যা কবলিত হয়েছে। হু-হু করে গঙ্গার জল গ্রামে ঢুকছে।

সুতিতে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে দুই শিশুর। মৃতদের নাম শুভজিৎ সরকার ও চাঁদনি মন্ডল। মূর্শিদাবাদ জেলার ২৬টি ব্লকের মধ্যে নয়টি ব্লক ইতিমধ্যেই বন্যা কবলিত। ১৮৪ টি গ্রামপঞ্চায়েত প্লাবিত বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

ইতিমধ্যেই রাজ্য সেচ দফতর গঙ্গার পাড়ে বালির বস্তা ফেলে জল আটকানোর কাজ শুরু করেছে। অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ডের জলের তোড়ে ফিডার ক্যানেলের পশ্চিম পাড়ে ফরাক্কার বেওয়া সামশেরগঞ্জের দোগাছি, সুতির উমরাপুর, সরলা, বসন্তপুর, মহেশাইল ২, হাড়োয়া গ্রামপঞ্চায়েত বন্যা কবলিত হয়েছে।

ফরাক্কার নিশিন্দ্রা কাটানে পাহাড়ি জলের তোড়ে ৮০ নম্বর জাতীয় সড়ক ভেঙে পড়েছে। ফলে ঝাড়খণ্ড থেকে ফরাক্কা আসার সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঝাড়খণ্ড থেকে আসা কয়েকশো পণ্যবাহী লরি আটকে রয়েছে নিশিন্দ্রায়।

জঙ্গিপুর মহকুমার ১১, ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশে ভাগীরথীর জল ঢুকে প্লাবিত। ধনপতনগর, পলিটেকনিক কলেজ, রঘুনাথগঞ্জ নবনির্মিত ভবন জলমগ্ন। রঘুনাথগঞ্জের গিরিয়া, সেকেন্দ্রা, বড়শিমূল, সম্মতিনগর, তেঘড়ি ও শেখালিপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে।

গঙ্গার ভাঙনে তলিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার বিঘে জমি। সব হারিয়ে কার্যত নিঃস্ব সেখানকার মানুষ।  জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৯টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে।

এবারও এলাকার মানুষের মসীহা হয়ে এগিয়ে এলেন শ্রম দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী জাকির হোসেন। জঙ্গিপুরের মানুষদের যে কোনো সমস্যা ধর্ম-বর্ণ না দেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় এলাকায় কাছের মানুষ বলে পরিচিত তিনি।

মূর্শিদাবাদের মানুষদের এহেন পরিস্থিতিতে কলকাতা থেকে ছুটে গেলেন জনদরদী নেতা জাকির হোসেন। ঘুরলেন বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী বিলির পাশাপাশি এদিন অসহায় মানুষদের অর্থসাহায্যও করলেন তিনি।

এদিও এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষদের সব রকম সাহায্যের আশ্বাসও দেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here