||গৌতম ভট্টাচার্য||

দেশ ভাগের সময় ওপার বাংলা ছেড়ে চলে এসেছিলেন এপারে। ঠাঁই হয়েছিল নদিয়ার কুপার্স ক্যাম্পে।তার পর বেশ নিশ্চিন্ত হওয়া গিয়েছিল। সম্প্রতি এনআরসি আতঙ্ক তাড়া করছে এই এলাকার বাসিন্দাদের। দেশ ছাড়তে হবে, এই ভেবে মাস খানেক ধরে দু চোখের পাতা এক করতে পারছেন না এই ক্যাম্পের বাসিন্দারা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কুপার্সের এই ক্যাম্পে থাকতেন জওয়ানরা। যুদ্ধ থামলে সেনারা চলে যান। ক্যাম্প পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। দেশ ভাগের সময় যেসব শরণার্থী এদেশে এসেছেন, তাঁদের ঠাঁই দেওয়া হয় এখানে। বর্তমানে কুপার্স ক্যাম্পের জনসংখ্যা প্রায় পঁচিশ হাজার। নোটিফায়েড এরিয়া ঘোষণা করা হয়েছে কুপার্সকে

বছর কয়েক আগের ভয়াল বন্যায় বানভাসি হয় কুপার্স ক্যাম্প। নথিপত্র সব ভেসে যায় বানের জলে। সম্প্রতি এনআরসি নিয়ে হইচই হচ্ছে গোটা দেশে। তার আঁচ এসে পড়েছে কুপার্স ক্যাম্পেওহারানো নথি কীভাবে জোগাড় করবেন, তা ভেবে কূল পাচ্ছেন না কুপার্স ক্যাম্পবাসী।

এনআরসি আতঙ্ক তাড়া করে ফিরছে মুর্শিদাবাদের চর দুর্গাপুরের বাসিন্দাদেরও। পদ্মার ভাঙনের হাত থেকে বাঁচতে ওপার বাংলা থেকে চলে এসেছিলেন এপারে। সেখানেও নিস্তার নেই। পদ্মার জলে হারিয়ে গিয়েছে নথি।তাই স্বস্তিতে নেই এই এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, বাংলাদেশেই ছিলাম। পরে রাক্ষুসি পদ্মা গ্রাস করতে থাকে ভিটে মাটি। একবার নয়, দু বার। তার পরেই দেশ ছাড়ার ভাবনা। চলে এলাম এপারে। আস্তানা গাড়লাম চর দুর্গাপুরে। নদী সরতে সরতে বাংলাদেশের দিকে অনেকখানি সরে গিয়েছে। তাই পদ্মার আতঙ্ক আর নেই। তবে এনআরসি আতঙ্ক রয়েছে।

চর দুর্গাপুরের সিংহভাগ বাসিন্দাই এদেশে এসেছিলেন একাত্তর সালের আগে। কেউ ঠাকুরদা, কেউবা বাবার হাত ধরে এপারে এসেছিলেন। দেশ ছাড়ার যন্ত্রণা ভুলে নতুন দেশকেই নিজের দেশ বলে ভালোবেসেছিলেন। সেই দেশেও এবার এনআরসি আতঙ্ক। হারানো নথি না পাওয়া গেলে কী দেশ ছাড়তে হবে, প্রশ্ন চর দুর্গাপুরের।

পদ্মার আতঙ্ক ফিকে হয়েছে। তবে চেপে বসেছে এনআরসি আতঙ্ক। ভয় পেতে পেতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার জোগাড় চর দু্র্গাপুরের বাসিন্দাদের। আবারও কি একবার দেশ ছাড়তে হবে? ছেড়ে ফের কোন দেশে যাবেন? এর শেষই বা কোথায়? হাজারো প্রশ্ন ভিড় করছে নদিয়ার কুপার্স কিংবা মুর্শিদাবাদের চর দুর্গাপুরবাসীর মনে।   

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here