নীলকন্ঠপাখি ওড়ানো হয় বিজয়া দশমীর দিনে । সমুদ্রমন্থনের সময় কন্ঠে বিষ ধারণ করেছিলেন বলে মহাদেবকে বলা হয় নীলকন্ঠ।তবে তা অবশ্যই চোরাপথে।

দ্য পিপল ডেস্কঃ বনেদী বাড়ি বা জমিদার বাড়ির পুজো মানেই নানা রীতি-রেওয়াজ ও প্রথা। তার মধ্যে অন্যতম একটি প্রথা হল দশমীতে নীলকন্ঠপাখি পাখি ওড়ানো।

কিন্তু অন্য পাখি কেন নয়? কেন শুধুমাত্র নীলকন্ঠপাখিই ওড়ানো হয় বিজয়ার দিনে? জানেন?

কেন নীলকন্ঠপাখি ?

পুরাণ মতে, চার ছেলেমেয়ে নিয়ে দুর্গাকে মর্তে পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন না দেবাদিদেব মহাদেব।

দশমীর দিন দেবী কখন পৌঁছবেন কৈলাশে তার অপেক্ষায় থাকেন মহাদেব।

দশমীর দিন পুজো সম্পূর্ণ হওয়ার পর দেবীর কৈলাশ যাওয়ার পালা আসে।

নীলকন্ঠপাখির কাজ হয় কৈলাশে উড়ে গিয়ে মহাদেবকে খবর পৌঁছে দেওয়া, আর অপেক্ষা নয়, মা ফিরছেন স্বামীর গৃহে।

অন্য পাখি কেন নয় ?

সমুদ্রমন্থনের সময় কন্ঠে বিষ ধারণ করেছিলেন বলে মহাদেবকে বলা হয় নীলকন্ঠ ।

মহাদেবের নামের সঙ্গে নীলকন্ঠপাখি -র নাম মিলে যাওয়ায় এই শিবের বার্তাবাহক হিসেবে মনে করা হয়।

সেকারণেই অন্য কোনো পাখি নয়, দশমীর দিন শুধুমাত্র নীলকন্ঠ পাখি ওড়ানো হয়।

মাটির নীলকন্ঠপাখি 

বর্তমানে এই পাখি বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের মধ্যে একটি। অনেকদিন আগেই সরকারিভাবে এই পাখি ধরা বা পোষা বা বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

এজন্য রীতি বজায় রাখতে কোনো কোনো বনেদী বা জমিদার বাড়িতে মাটির নীলকন্ঠ বানানো হয়।

তবুও এখনও কোথাও কোথাও এই পাখি ধরা ও বিক্রি চলছে। তবে তা অবশ্যই চোরাপথে।

কেমন দেখতে ?

২৫ থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার লম্বা পাখিগুলির ওজন হয় ৭০ থেকে ১০০ গ্রাম। উজ্জ্বল নীল বর্ণ, বুকের দিকে হালকা বাদামি, চোখ ও ঠোঁট কালো। উড়ন্ত পাখির পাখনার নীলসাদা ছটা।

এই পাখি ধরা, পোষা, বিক্রি নিষিদ্ধ কেন?

পরিবেশবিদদের মতে,  এই পাখি খোলা জায়গায় থাকতে ভালবাসে।  খাঁচায় রাখলে বাঁচার সম্ভাবনা ক্ষীণ। পুজোর বাড়িতে আগে থাকতেই পাখি ধরে খাঁচায় রেখে দেওয়া হয়। আটকে রাখলে ওদের শক্তি কমে যেতে তাকে। 

ফলে উড়িয়ে দিলেও উড়তে পারে না। দেখা যায়, উড়িয়ে দেওয়ার পরে অনেক পাখিই রাস্তায় মরে পড়ে রয়েছে। বা উড়ে যেতে না পারায় কুকুর বা বিড়ালের কামড়ে মারা যাচ্ছে। 

সচরাচর এই পাখির দেখা না মিললেও কলার মোচার মতো এই ছোট্ট প্রাণীটি দেখতে খুবই আকর্ষণীয়। যেকারণে চোরাশিকারিদের হাতে পড়ে এখনও পাচার হয়।

সচেতনতার মাধ্যমে এই বন্যপ্রাণ বাঁচাতে চায় বনদফতর।      

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here