দ্য পিপল ডেস্কঃ বড়দিনের উৎসবে মেতে উঠেছে শহর কলকাতা সহ গোটা বিশ্ব। প্রভু যীশুর জন্মের বিশেষ মুহূর্তে প্রার্থনায় রত হন শুভ কামনায়।

তবে উত্সব মানেই খাওয়াদাওয়া তো আছেই। আর বড়দিনের খাওয়াদাওয়ার তালিকায় কেক তো থাকবেই।

জানেন কি কেন বড়দিনে কেক খাওয়া হয়? কবে থেকে কীভাবে শুরু হল বড়দিনে কেক খাওয়ার রীতি?

বড়দিনে ফ্রুট কেকে বাজার ছেয়ে যায়। ফ্রুট কেক আবিষ্কার করে রোমানরা।

তখনও কেকের ধারণা তৈরি হয়নি। যবের গুঁড়োতে ওয়াইন, মধু মিশিয়ে নানা রকম শুকনো ফল দিয়ে তৈরি করা হত এক ধরনের মিস্টি। পরবর্তীকালে তার নাম হয় ফ্রুট কেক।

এই বিশেষ মিস্টির জনপ্রিয়তা এতটাই বাড়তে থাকে যে বিয়ে বা বড় যে কোনও অনুষ্ঠানেই কেক তৈরি হত।

অন্যদিকে, ইংল্যান্ডে উৎসবে দেদার খরচের হাত থেকে রেহাই পেতে বেশ কয়েক দিন আগে থেকে কৃচ্ছসাধনের রীতি ছিল।

অনেকে উবের খাবার তৈরির জন্য রোজকার খাবার থেকে কিছু শুকনো খাবার বাঁচিয়ে রাখতেন। যা পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করা হত।

ইংল্যান্ডে কেকের মধ্যে শুকনো ফলের পাশাপাশি শুকনো মাংসও ব্যবহারের কথাও জানা যায়।

উত্সবের সময় চলত ভিন্ন পদ তৈরির জন্য নানা রকমের এক্সপেরিমেন্ট চলত।

এমনই এক্সপেরিমেন্টে মিস্টির উপাদান হিসেবে আসে ডিম ও ময়দা। বর্তমানে কেক তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান এই দুটি জিনিস।

এক সময় ইংল্যান্ডে ডিম, ময়দার মন্ড গোল গোল করো তৈরি করে তা মসলিন কামড়ে মুড়িয়ে গরম জলে সিদ্ধ করা হত।

আবার কখনও এই ডিম, ময়দার গোল মন্ড এখনকার লিট্টির মতো সেঁকে খাওয়ারও চল ছিল।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যেতে থাকে মিস্টি তৈরির ধরন। বদলে যায় নামও। বিভিন্ন রকমফের নিয়েই নাম হয় কেক।

স্বাভাবিক ভাবে যে কোনও উৎসবের শেষ দিনেই বেশি আনন্দ ও উৎসব পালনের আয়োজন করা হয়। সেই মতো ক্রিসমাস সপ্তাহের শেষ দিনেই বিরাট আকারের কেক তৈরির প্রথা শুরু হয়।

রানি ভিক্টোরিয়া এক সময় ঘোষণা করেন,  ক্রিসমাস সপ্তাহের শেষ দিনটিতে কোনও রকম উবের আয়োজন করা যাবে না।

সমস্যায় পড়লেন কেক বিক্রেতারা। ঠিক করলেন উত্সবের দিনেই বিক্রি করা হবে কেক। সেই থেকেই ২৫ ডিসেম্বর অর্থাৎ বড়দিনেই কেক তৈরি ও খাওয়ার প্রথা চালু হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here