।। শুভজিৎ চক্রবর্তী ।। 

 ২০০৭ সাল। বাম শাসন অস্তকালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। নন্দীগ্রাম ঘটনায় সাড়া পড়ে গিয়েছিল গোটা দেশে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালিন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধি মন্তব্য হাড়হিম সন্ত্রাস চলছে রাজ্যজুড়ে। রাজ্যপালের এহেন মন্তব্যে উত্তপ্ত আলোড়ন তৈরি হয়েছিল রাজ্যজুড়ে। তারপর সময় বদলেছে।

সময় ২০১৯। বাম শাসনের অবসান ঘটেছে ২০১১ সালে। ক্ষমতায় এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার। সময় বদলে গেলেও রাজ্যের প্রহসনের মাত্রা বদলায়নি। ফের সরব হতে হয়েছে রাজ্যপালকে। রাজ্যপাল থাকাকালীন শেষ দিন সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন কেশরী নাথ ত্রিপাঠি। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। কটাক্ষ প্রাক্তন রাজ্যপালের।

সদ্য রাজ্যপালের পদে নিযুক্ত হয়েছেন জগদীপ ধনকড়। সুপ্রিম কোর্টের একজন সুদক্ষ আইনজীবী হিসাবে পরিচিতি রয়েছে তাঁর। তবে রাজ্যপালের ভূমিকায় তিনি সুদক্ষ। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে যে ভুমিকা তিনি পালন করছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিছুদিন আগেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে দেখা করেন রাজ্যপাল। সেখানে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন বুদ্ধবাবুর সঙ্গে আমার অনেকদিনের সম্পর্ক তাই তাঁকে দেখতে এসেছি। রাজনৈতিক ধারাপাত অমিল হলেও, বুদ্ধবাবু হাসপাতালে থাকাকালীন তাঁকে দেখতে ছুটে যান তিনি।

এরই মাঝে রাজনৈতিক সংঘর্ষে আহত হন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। আহত অর্জুনকে দেখতে হাসপাতালে উপস্থিত হন তিনি।   সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় রাজ্যপালের ভুমিকা ছিল প্রশংসনীয়। যেখানে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের মাঝ থেকেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন তিনি। যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়। একজন রাজ্যপাল হয়ে কিভাবে এই পদক্ষেপ নিতে পারেন প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এমনকি রাজ্যপালের অতি সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। যদিও রাজ্যে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়ে পড়েছে কটাক্ষ রাজ্যপালের।

দশমীর পর দেবীর বিদায়ের মুহুর্তে দেখা করলেন প্রাক্তন কীর্তিমান ফুটবল খেলোয়াড় পিকে ব্যানার্জীর সঙ্গে। একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন দু’পক্ষ। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবারও রাজ্য সরকারের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

এর আগে এ রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের পদে আসীন হয়েছেন অনেকেই। রাজ্যে সন্ত্রাস চললেও সেভাবে সরকারের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি কেউই। সেইসঙ্গে সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে রাজভবনের গন্ডি টপকে শান্তির বার্তা দিতে মাঠে নেমে এই প্রথম সক্রিয় ভুমিকা পালন করছেন । সরকার পক্ষের সঙ্গে বাদানুবাদে রাজ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও নিজের ভূমিকায় বারবার সক্রিয়তা দেখিয়েছেন তিনি।

ইতিমধ্যেই জিয়াগঞ্জের ঘটনায় উত্তপ্ত গোটা দেশ। তাঁর উপর বীরভূম এবং মেদিনীপুরের ঘটনা অস্বস্তিতে ফেলেছে রাজ্য সরকারকে।  প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী পক্ষ। এরই মধ্যে রাজ্যপালের সরকার বিরোধী মন্তব্য ফের কাঠগড়ায় তুলে ধরছে শাসক দলকে। আরও একবার প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here