দ্য পিপল ডেস্কঃ অবশেষে মিটল শতাব্দী প্রাচীন অয্যোধ্যা মামলা। শনিবার রায় ঘোষণা করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। অয্যোধ্যার ২.৭৭ একর জমিতে তৈরি হবে মন্দির। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে ট্রাস্ট তৈরি করে মন্দির গড়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

শনিবার সকাল ১০ টা ১৫ নাগাদ সুপ্রিম কোর্টের ১ নং রুমে শুরু হয় মামলার রায়দান পর্ব। মামলার রায় দেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ সহ পাঁচ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। বাকি বিচারপতিদের মধ্যে ছিলেন বিচারপতি এসএ বোবদে, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচুড়, অশোক ভুষণ এবং এস এ নাজির।

আরও পড়ুনঃ অয্যোধ্যা মামলা নিয়ে সুপ্রিম রায়কে স্বাগত রাজনৈতিক নেতাদের

হিন্দু তরফে এই রায়কে স্বাগত জানানো হলেও, এই রায়ে খুশি নয় সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী জাফরিয়াব জিলানী জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত জানাই। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত সন্তুষ্ট নই আমরা।পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি আমরা।

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য কামাল ফারুকি জানিয়েছেন, আমাদের ১০০ একর জমি দেওয়া হলেও কিছু লাভ নেই। এমনিতেই আমাদের ৬৭ একর জমি রয়েছে। আমাদের সেই ৬৭ একর জমি নেওয়ার পর আমাদেরকে ৫ একর জমি দেওয়া হচ্ছে।

 এদিনের পাঁচ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের রায় নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছেন বিশ্নেষকরা। এএসআই রিপোর্ট অনুযায়ী খালি জমিতে তৈরি হয়নি বাবরি মসজিদ। কারণ মসজিদের নিচের অংশের গঠন ইসলামিক গঠনশৈলী অনুযায়ী কোনও মিল নেই বলে জানিয়েছে আদালত। শুধুমাত্র এএসআইয়ের রিপোর্টের ভিত্তিতে কিভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে এদিন রায় শোনানোর সময় প্রধান বিচারপতি বলেন শুধুমাত্র বিশ্বাসের ভিত্তিতে জমির মালিকানা ঠিক করা সম্ভব নয়। যেহেতু মসজিদের বাইরে রাম চবুতরা এবং সীতা রাসোইতে প্রার্থনা করতেন হিন্দুরা। তাই গর্ভগৃহের অধিকার রয়েছে তাঁদের।

 রায়দানের সময় প্রধান বিচারপতি বলেন হিন্দুরা বিশ্বাস করেন এখানেই রামের জন্মভূমি রয়েছে। পাশাপাশি মামলার রায় যাতে অন্য কারোর বিশ্বাসে আঘাত করতে না পারে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। তাহলে শুধুমাত্র বিশ্বাসের ভিত্তিতে কিভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

যদিও সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের তাবড় রাজনৈতিক নেতারা। যদিও আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট নন অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তাহিদ্দুল মুসুলিমিন প্রধান আসাদদ্দুদিন ওয়েইসি বলেন, আমাদের সংবিধানের ওপর বিশ্বাস করি। আমরা আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই করব। আমাদেরকে যে ৫ একর জমি দেওয়া হয়েছে, তা আমরা নিতে রাজি নই।

এদিন কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, কংগ্রেস তাঁদের আসল রঙের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।মসজিদের তালা ভাঙার নির্দেশ না দিলে এই নিয়ে কোনও দ্বন্দ্ব থাকত না।

দেশজুড়ে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জম্মু-কাশ্মীরে রয়েছে কড়া নিরাপত্তা। এদিনের রায় ঘোষণার আগে থেকেই প্রশাসনের তরফে কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে গোটা অয্যোধ্যা জুড়ে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা রয়েছে দিল্লিতেও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here