দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এনআরসি লাগুর কথা ঘোষণা করে এসেছে মোদি সরকার। তার আগে সিটিজেনশিপ অ্যামেডমেন্ট বিল (Citizenship Amendment Bill)  আনতে চাইছে সরকার। তাই উত্তর-পুর্বের সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে চায় কেন্দ্র।

সিটিজেনশিপ অ্যামেডমেন্ট বিল আনার আগে উত্তর-পুর্বের সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না ত্রিপুরার বিরোধী পক্ষ। উপস্থিত ছিলেন না কংগ্রেস নেতা সুবল ভৌমিক (Subal Bhowmik) । এমনকি দেখা মেলেনি ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মাণিক সরকারের (Manik Sarkar)।

আরও পড়ুনঃ লাখ টাকায় মিলছে টেটের প্রশ্নপত্র

এবিষয়ে কংগ্রেস নেতা সুবল ভৌমিক জানিয়েছেন, আমরা সিটিজেনশিপ অ্যামেডমেন্ট বিলের বিপক্ষে। যা আনা হলেই দেশের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। মানুষের মধ্যে মারপিট, হানাহানি আরও বেড়ে যাবে। আমরা এই বিলের পক্ষে রায় দিতে নারাজ। আমরা এই মুহুর্তে এনআরসি হোক আমরা তা চাই না। তাই আমরা বৈঠক বয়কট করেছি।

তিনি আরও বলেন, লোকসভায় যে পঞ্চম শিডিউলের ১২৫ নং অ্যামেডমেন্ট আনা হয়েছে ঘিরে মুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যা সংশোধনের জন্য একটি স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। যার চেয়ারপার্সন পদে নিযুক্ত রয়েছেন আনন্দ শর্মা।

কংগ্রেসের তরফ থেকে আমরা প্রস্তাব রেখেছি বর্তমানে যে পরিমাণ আসন রয়েছে সেটাকে দ্বিগুণ বাড়ানো হোক। অর্থাৎ ২৮ টা আসন বাড়িয়ে ৫৬ করা হোক। বাকি ২ জন মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ করে মোট ৬০ জন করা হোক।

পাশপাশি আমরা জনিয়েছি, ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিসট্রিক্ট কাউন্সিল (Tripura Tribal Areas Autonomus District Council) এর নাম পরিবর্তন করে ত্রিপুরা টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল করা হোক। আগে এটি জেলাশাসকের অধীনে ছিল। সুতরাং এর কোনও স্বাধীন স্বত্বা ছিল না। তাই আমরা বদল আনতে চাইছি।

আরও পড়ুনঃ বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতি রুখতে ত্রিপুরায় জরুরি বাম-কংগ্রেস জোট

বহুত্ববাদের দেশ ভারতবর্ষ। এখানে সমস্ত ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ভাষা ব্যবহার করে থাকেন। আমরা কোকবোরক ভাষাকে অষ্টম তফসিলির মর্যাদা দিয়ে এর গুরুত্ব বাড়াতে চাইছি। পাশপাশি এই ভাষা রোমান হরফে চালু করার জন্য দাবী জানিয়েছি।কারণ ইতিমধ্যেই ত্রিপুরায় দেবনগরী ভাষা চালু করার পরিকল্পনা শুরু করেছে বিজেপি সরকার।

দেবনগরী ভাষার সঙ্গে হিন্দির অনেকটাই মিল রয়েছে। তাই দেবনগরী ভাষাকে এনে তাঁদের এক দেশ এবং এক ভাষার স্বপ্নপূরণ করতে চাইছে বিজেপি সরকার। কিন্তু আমরা এই দাবী মানতে নারাজ।

আমরা সংবিধানের ২৭৫ এবং ২৮০ ধারায় বদল আনতে চাইছি। যেখানে কেন্দ্র সরকারের ঝুলি থেকে আসা টাকা আর্থিক কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সেখানে রাজ্য সরকারের কোনও হস্তক্ষেপ থাকবে না।

এর আগে অসমের কার্বি আংলং অটোনোমাস কাউন্সিল (Karbi Anglong Autonomus Council) এবং নর্থ কার্চার হিল অটোনোমাসস কাউন্সিলের (North Cachar Hills Autonomus Council) ক্ষেত্রে সরকার যেওমন সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, আমরা চাই এক্ষেত্রেও ২৭৫ এবং ২৮০ ধারার পরিবর্তন এনে সাংবিধানিক মর্যাদা দিক সরকার। যেখানে রাজ্যের কোনও হস্তক্ষেপ থাকবে না। স্বতন্ত্রভাবে মুক্ত হস্তে পরিচালন করবে ওই কমিশন।

তবে আরও একবার বলতে চাই আমরা সিটিজেনশিপ অ্যামেডমেন্ট বিলের বিরোধিতা করি। আআমাদের মনে হয়েছে এখনই যদিও এই বিল আনা হয় সেক্ষেত্রে গৃহযুদ্ধ হওয়ার সম্ভবনা প্রবল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here