দ্য পিপল ডেস্কঃ আজ বিজয়া দশমী । সকাল থেকেই সবার মন খারাপ। কারণ উমা আজ ফিরে যাবেন কৈলাশে। ফের একবছরের অপেক্ষা।

পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, এই দিনেই পিতৃ-আবাস ছেড়ে দেবী পাড়ি দেন স্বামীগৃহ কৈলাশের দিকে। এই দিনেই তাই দেবীর প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। ভারত ও নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দিনটি নানাভাবে পালিত হয়ে থাকে।

বিজয়া দশমী 01

কিন্তু প্রশ্ন হল, এই দিনটিকে ‘বিজয়া দশমী’ বলা হয় কেন? কোন ‘বিজয়’-কেই বা চিহ্নিত করে পালন করা হয় দিনটি?

‘বিজয়া দশমী’ বলা হয় কেন?  

আশ্বিন মাসের শুক্লা পক্ষের দশমী তিথিতে শ্বশুরবাড়ি কৈলাশে পাড়ি দেন দেবী দুর্গা। সেই কারণেই বিজয়া দশমী নাম।

কোন ‘বিজয়’-কে চিহ্নিত করে পালন করা হয় দিনটি?

কিন্তু এই দশমীকে ‘বিজয়া’ বলা হয় কেন, তার পৌরাণিক ব্যাখ্যায় উঠে আসে একাধিক কাহিনি।

পুরাণে মহিষাসুর-বধ সংক্রান্ত কাহিনিতে বলা হয়েছে, মহিষাসুরের সঙ্গে ৯ দিন ৯ রাত্রি যুদ্ধ করার পরে দশম দিনে তার বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করেন দেবী।

শ্রীশ্রীচণ্ডীর কাহিনি অনুসারে, আশ্বিন মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশীতে দেবী আবির্ভূতা হন।

শুক্লা দশমীতে মহিষাসুর-বধ করেন। বিজয়া দশমী সেই বিজয়কেই চিহ্নিত করে।

বিজয়া দশমী 02

উত্তর ও মধ্য ভারতে এই দিনে যে দশেরা উদযাপিত হয়। তবে তার তাৎপর্য ভিন্ন।

বাল্মীকি রচিত রামায়ণে কথিত আছে, আশ্বিন মাসের শুক্লা পক্ষের দশমী তিথিতেই নাকি রাবণকে বধ করেছিলেন শ্রী রামচন্দ্র।

বিজয়া দশমী 03

তাই এই দিনটিকে দশেরা বা দশহরা হিসেবে পালন করেন উত্তর ও মধ্য ভারতের মানুষ।

আবার কালিদাসের রঘুবংশ ও তুলসীদাসের রামচরিতমানসে বলা হয়েছে যে, আশ্বিনের তিরিশতম দিনে লঙ্কা জয় করে সস্ত্রীক অযোধ্যায় ফিরেছিলেন শ্রী রামচন্দ্র। সেই প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ঘরে ঘরে জ্বলেছিল দীপ।

বিজয়া দশমী 04

সেই রীতিই দশেরা ও দীপাবলি রূপে পালন করা হয়।

আবার মহাভারতে কথিত হয়েছে, দ্বাদশ বৎসর অজ্ঞাতবাসের শেষে আশ্বিন মাসের শু‌ক্লা দশমীতেই পাণ্ডবরা শমীবৃক্ষে লুক্কায়িত তাঁদের অস্ত্র পুনরুদ্ধার করেন।

ছদ্মবেশ-মুক্ত হয়ে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় ঘোষণা করেন। এই উল্লেখও বিজয়া দশমীর তাৎপর্য বৃদ্ধি করে।

বিজয়া দশমী -তে কেন সিঁদূর খেলা হয়?

বছরে একবার মাত্র দশ দিনের জন্য মা দুর্গা তার ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বাপেরবাড়ি আসেন৷ মেয়ের ঘরে ফেরার আনন্দে জোরকদমে শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি৷ সেজে ওঠে উমার ঘর৷ মেয়েকে তার পচ্ছন্দের খাবার রেঁধে খাওয়ানো হয়৷

দশমী আসতেই উমাকে আবার শ্বশুড়বাড়ি পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়৷ রীতি মেনে মেয়েকে শ্বশুড়বাড়ি পাঠানো হয়৷ সিঁদুর খেলা সেই রীতির অন্যতম অঙ্গ।

দেবী বিদায়ের আগে সিঁদুর খেলা হয় কারণ, মা দুর্গাকে বাঙালীরা বিবাহিতা নারী হিসাবে মনে করে৷

হিন্দু রীতি অনুযায়ী সিঁথির সিঁদুর আসলে বিবাহিতা নারীর চিহ্ন৷

অনেকের বিশ্বাস, যথাযথ রীতি মনে সিঁদুর খেলা হলে অকালে কোন মহিলা বিধবা হবেন না৷

এদিন সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয় মানবকুল। চলে মিষ্টিমুখ।

বিশ্ব সংসারে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। আর এখানেই বিজয়া দশমীর বিশেষত্ব অন্যরকম বলে মনে করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here