ট্রাম্পের ইমপিচমেন্টে গ্রিনসিগনাল 01

দ্য পিপলডেস্ক- ইমপিচমেন্টের দাবি আগেই উঠেছিল । এবার সেই প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল ।  

হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর ভোটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মিলল সবুজ সঙ্কেত ।

এর পর ইমপিচমেন্ট তদন্তে জনশুনানি শুরু করতে বাধা রইল না । 

ট্রাম্পের ইমপিচমেন্টে গ্রিনসিগনাল

বৃহস্পতিবার ২৩২-১৯৬ ভোটে তদন্তপন্থীরা জেতেন । দু’জন ডেমোক্র্যাট তদন্তের বিরোধিতার পক্ষে ভোট দেন ।

এক জন ইন্ডিপেন্ডেন্ট সদস্য তদন্তের পক্ষে ভোট দেন । ভোটদানে বিরত ছিলেন ৩ রিপাবলিকান এবং ১ ডেমোক্র্যাট  । 

আরও পড়ুন : মার্কিন কংগ্রেসে ব্যাকফুটে মোদি সরকার

এই প্রথম ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট প্রসঙ্গে ভোটাভুটি হল হাউসে । আগস্ট থেকে তদন্ত শুরু করিয়েছেন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।

সেই সময় ভোটাভুটি ছাড়াই এগিয়েছিলেন ডেমোক্র্যাটরা । সেই কারণে তদন্তকে অবৈধ বলে দাবি করছিলেন রিপাবলিকানরা ।

সম্প্রতি আদালত সেই দাবি খারিজ করে দেয় । হোয়াইট হাউস এই তদন্তে কোনও রকম সহযোগিতা করবে না বলেছিল ।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে অনেকে সাক্ষ্য দিয়েছেন । ২০১৬-র নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে

পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাউসের হাতে তুলে দিতে চাইছিল না হোয়াইট হাউস ।

আদালত সেই দাবিও খারিজ করেছে । 

বৃহস্পতিবারের ভোটে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ফলে এ বার জনশুনানি, টেলিশুনানির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে । সূত্রের খবর, ১২ নভেম্বর থেকে শুরু হবে প্রক্রিয়া ।

কোন অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাম্পের ইমপিচমেন্টে গ্রিনসিগনাল ?

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ডেকে আনছেন । পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে,ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের কল-রেকর্ড প্রকাশ্যে আসায় ।

বিরোধীদের অভিযোগ, প্রকাশিত ২৫ জুলাইয়ের ওই কল-রেকর্ডটি ‘সম্পাদিত’। কথোপকথনের  পুরোটা রেকর্ডে নেই ।

রিপাবলিকানরা সেই দাবি উড়িয়ে বলছেন, ডেমোক্র্যাটরা ‘সোভিয়েত ঘরানা’র আশ্রয় নিচ্ছেন ।

আরও পড়ুন : আর্মেনীয় গণহত্যার স্বীকৃতি দিল আমেরিকা

মার্কিন আইন অনুযায়ী,হাউস তদন্ত-শেষে ট্রাম্পকে শেষ পর্যন্ত ইমপিচ করলেও, সেটাই চূড়ান্ত নয়। 

পরবর্তী পর্যায়ে শুনানি শুরু হবে সেনেটে । সেখানে যদি দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য বিরুদ্ধে ভোট দেন, তবে প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করা যাবে ।

এর আগে কাদের বিরুদ্ধে হাউসে ইমপিটমেন্ট প্রক্রিয়া হয়েছে ?

এটাই প্রথম নয় । এর আগে হাউসে ৩ বার প্রেসিডেন্টের ইমপিচমেন্ট বিষয়ক ভোটাভুটি হয়েছে । অ্যান্ড্রু জনসন এবং বিল ক্লিন্টনের বিরুদ্ধেও ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ।

হাউসে তা পাসও হয়েছিল । তবে সেনেটে দু’জনেই জিতে যান ।

ব্যতিক্রম রিচার্ড নিক্সন । তিনি হাউস এবং সেনেট, উভয় জায়গাতেই পরাজিত হবেন এবং অপসারিত হবেন বুঝে সময়ের আগেই পদত্যাগ করেছিলেন । 

ট্রাম্প কি এবার রিচার্ড নিক্সনের পূর্বসূরী হতে চলেছেন ? প্রশ্নের উত্তর সময়েই বলবে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here