দ্য পিপল ডেস্কঃ ম্লেচ্ছদের গাড়ি প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এটাই ছিল রীতি। কিন্তু বছরের পর বছর সেই রীতিই অনুসরন করা হচ্ছে।

১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ব্রিটিশদেরও বিতাড়িত করা হয়। ব্রিটিশ বিদায় নিলেও ১৯১৪ সাল থেকে সেই প্রচলিত রেওয়াজের একচুলও বিচ্যুতি হয়নি দিল্লির দুটি শতাব্দী প্রাচীন পুজোতে। একটি দিল্লির কাশ্মীরি গেট, অন্য পুজোটি হল তিমারপুর ।

এই দুটি পুজোতে আজও মাকে কৈলাশে পাঠানো হয় গরুর গাড়িতে। তিমারপুর পুজো কমিটির এই রীতিতে রয়েছে বৈচিত্র্যও। কারণ গরুর গাড়ি ব্যবহার করলেও তা নিজেরাই টেনে নিয়ে যান। গাড়ির গায়ে দড়ি বেঁধে কাঁধে করে মাকে টানতে টানতে নিয়ে যাওয়া হয়। ভাবতে অবাক লাগলেও এই রীতিই বছরের পর বছর চলছে।

পুজো কমিটির কর্তাদের কথায়, কালের নিয়মে অনেক কিছুই বদলেছে। শুধু বদলায়নি ১০৬ বছরের পুরোনো সেই রীতি। তাঁরা এই বদল রুখতে পেরে যথেষ্ঠ আনন্দিত।

কাশ্মীরি গেটের পুজো এবার পদার্পন করল ১০৯ বছর। বরাবরের মত এবারেও বজায় রয়েছে সাবেকিয়ানা। এই পুজোর বাড়তি আকর্ষণ পংক্তিপুজো। যা সকাল থেকে শুরু হয়ে চলে বিকেল পর্যন্ত।

 

শতাব্দী প্রাচীন পুজো দুটির পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। বঙ্গভঙ্গের পরপরই কলকাতা থেকে দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন ব্রিটিশরা। একইসঙ্গে স্থানান্তর করা হয় ছাপাখানাটিও।সেইসঙ্গে বদলি হন কয়েকশ কর্মচারীও। যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাঙালিও। তারাই সর্বপ্রথম একজোট হয়ে শুরু করেন তিমারপুরের দুর্গাপুজো। সেই পুজোই চলছে এখনও।

আভিজাত্য বজায় রেখেই বছরের পর বছর পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। তবে পুজোর কটাদিন চুটিয়ে আনন্দ করলেও দশমীর সকাল থেকেই উদ্যোক্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। কারণ এই বছর যমুনাতে প্রতিমা নিরঞ্জনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

তাহলে কোথায় নিরঞ্জন করা হবে প্রতিমা?  সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে উদ্যোক্তাদের মনে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here