স্বাস্থ্য পরিষেবা অচল, ঘোলা জলে মাছ ধরছেন রাম থেকে বাম!

0
45

দ্য পিপল ডেস্কঃ বুধবার রাতে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে এক পশলা বৃষ্টি। যেন গৃহস্থ বাড়ির হঠাৎ আগন্তুক। সেদিন গরমের দাবদাহ কাটিয়ে স্বস্তির রাত কাটিয়েছিল তিলোত্তমাবাসী। বৃহস্পতিবার সকাল। আবারও সূর্যের প্রখর রোদ। ভ্যাপসা গরম। এরই মাঝে সন্দেশখালির ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপির মিছিল বেশ খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছিল তাপমাত্রা।

শুধু বিজেপির মিছিলই নয়। সরকারী হাসপাতাল গুলিতে চলছে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি। জুন মাসের ১০ তারিখ । এনআরএসে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে গোটা বাংলা। বিভিন্ন প্রান্তে সরকারী হাসপাতাল গুলিতে বহির্বিভাগ ও এমার্জেন্সিতে কাজ বন্ধ করে দেয় জুনিয়র ডাক্তাররা।  

ঘটনার ৪ দিন অতিক্রান্ত।  জুনিয়র ডাক্তার নিগ্রহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি কার্যত অগ্নিগর্ভ। রাজ্য ছাড়িয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এনআরএস কাণ্ডে

জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন অভিনেতা -অভিনেত্রী থেকে বিদ্বজনেরা।

বারবার প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওরফে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও। কীভাবে জুনিয়র ডাক্তারদের এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক রঙ লাগানোর চেষ্টা করছেন তিনি, তা নিয়ে সমালোচনায় মুখর হন বিরোধীরা।

শুধুমাত্র কলকাতার মানুষরাই নন। পশ্চিমবঙ্গের সরকারী হাসপাতাল গুলিতে চিকিৎসা করাতে আসেন বাংলাদেশের মানুষরাও। কর্মবিরতি থাকায় চিকিৎসা না করাতে পেরে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেক নিরীহ মানুষও।

কলকাতার স্বাস্থ পরিষেবার এই অচলাবস্থার সুযোগ নিয়ে দেদার ব্যবসা করছে বে-সরকারি নার্সিংহোম গুলো। রোগীদের বেহাল অবস্থার সুযোগ নিয়ে জমিয়ে চলছে ব্যবসা। এই মর্মে ত্রিপুরার বাম নেতা পবিত্র কর মন্তব্য করেছেন, “মুখ্যমন্ত্রীর উচিৎ জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে, পরিস্থিতির জটিলতাকে দ্রুত সমাধান করা। চিকিৎসার প্রসঙ্গে কলকাতার হাসপাতাল গুলির উপর ত্রিপুরাও যথেষ্ট নির্ভরশিল। যদি এই বেহাল অবস্থার সুরাহা না হয় তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায় ?”

শুধুমাত্র কলকাতা নয় রাজধানী দিল্লির চিকিৎসকরাও সরব হয়েছেন এই ঘটনার প্রতিবাদে। এরই মধ্যে ঘোলা জলে মাছ ধরছে বাম থেকে রাম সকলেই।

প্রশ্ন উঠছে, গণ আন্দোলনই কি সমাধান নাকি কাজ করাটা আসল ? যদিও এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে খোদ চিকিৎসকরাই। তাঁরা বলছেন ‘তাঁরা কাজ করতে চান রোগীর সেবা করতে চান, কিন্তু তাঁদের নিরাপত্তা কোথায় ? মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে জবাব চাইছেন তাঁরা’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here