দ্য পিপল ডেস্কঃ ৬০০ কোটি টাকা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ত্রিপুরার প্রাক্তন মন্ত্রী বাদল চৌধুরির জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল ত্রিপুরা হাইকোর্ট।

আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে বুধবার গ্রেফতার করা হয় ত্রিপুরার প্রাক্তন মন্ত্রী বাদল চৌধুরীকে। ত্রিপুরা সিপিআইএম দলের সম্পাদক গৌতম দাসের অভিযোগ, একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জোর করে তাঁকে পশ্চিম আগরতলায় তুলে নিয়ে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

সম্প্রতি প্রাক্তন মন্ত্রী বাদল চৌধুরীর নামে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করেছিল ত্রিপুরার শাসকদল। মামলা থেকে রেহাই পেতে মঙ্গলবার আগরতলা হাইকোর্টে জামিনের আবেদনের করেন তিনি। বুধবার শুনানি চলাকালীন আগরতলার আইএলএস হাসপাতেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন বাদল চৌধুরী।

দুপুরে আচমকাই হাসপাতলে অভিযান চালিয়ে পুলিশ অসুস্থ প্রাক্তন মন্ত্রী বাদল চৌধুরীকে পশ্চিম আগরতলা থানায় তুলে নিয়ে যায়। থানা লকআপে আটকে রাখার কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ বোধ করেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আগরতলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে ভর্তি করা হয়।বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

এই ঘটনার পর সিপিআইএমের ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সম্পাদক গৌতম দাস সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার পুলিশকে দিয়ে অত্যন্ত জঘন্য এবং নিন্দনীয় কাজকর্ম করছে। বাদল চৌধুরী বর্তমানে অসুস্থ তিনি নিজে একা চলাফেরা করতে পারেন না। এই অবস্থায় তাঁকে জোর করে থানায় ধরে আনা হয়েছে।” এমনকি তার সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগ তোলেন তিনি।

সাবেক মন্ত্রীকে প্রথমে থানায় এবং পরে সরকারি হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিন্দা করেছেন তাঁর দুই আইনজীবী কৌশিক ভট্টাচার্য এবং রঘুনাথ মুখার্জি। কৌশিক ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন “অসুস্থ বাদল চৌধুরীকে এভাবে তুলে আনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এমনকি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাঁকে পুলিশ তুলে আনার সময় তাঁর স্ত্রী বাধা দিতে গেলে মহিলা পুলিশ কর্মী তাঁকেও শারীরিকভাবে নিগৃহীত করেছে।” গোটা বিষয়টি তারা ত্রিপুরা হাইকোর্টের কাছে লিখিত আকারে অভিযোগ জানাবেন বলেও জানান।

অন্যদিকে মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে বাদল চৌধুরির করা মামলারই এদিন রায় দিল আদালত। সেখানেই অসুস্থ প্রাক্তন মন্ত্রীর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here