।। সহেলী চক্রবর্তী ।।

তৃণমূল পরিচালিত সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য তিনি।তাঁর ছেলে কোচবিহার জেলা পরিষদের সদস্য। তিনিও জিতেছেন তৃণমূলের টিকিটে। অথচ মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের ছেলে পঙ্কজকে দেখানো হয়েছে বিজেপি হিসেবে। দিন কয়েক আগে নবান্নে সরকারিভাবে যে বৈঠক ডাকা হয়েছিল, সেই তালিকায় পঙ্কজকে বিজেপি দেখানো হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ কোচবিহার জেলা তৃণমূলের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এমনটা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীও। তাঁর ছেলে পঙ্কজ জেলা পরিষদের সদস্য। এহেন পঙ্কজের নামের পাশেই বিজেপি লেখা থাকায় অস্বস্তিতে দল।

কোচবিহার জেলা পরিষদের আসন সংখ্যা ৩৩। বিরোধী শূন্য এই জেলা পরিষদের সদস্য পঙ্কজও। দিন কয়েক আগে রাজ্যের সব জেলা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা। সেই বৈঠকের তালিকা তৈরি করে পাঠানো হয়েছিল জেলা থেকে। বিরোধী শূন্য একটি জেলা পরিষদের পাঠানো সেই তালিকায় কীভাবে পঙ্কজের নামের পাশে বিজেপি লেখা হল, তা বুঝতে পারছেন না স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও।

কোচবিহার জেলা পরিষদের সভাধিপতি উমাকান্ত বর্মণ বলেন, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে গিয়ে জানতে পারি আমাদের বেশ কয়েকজন সদস্যের নামের পাশে থাকা রাজনৈতিক পরিচয় ভুল। কাউকে বিজেপি, কাউকে এসইউসিআই, কাউকে বা অন্য কোনও দলের দেখানো হয়েছে। কে এটা করল বুঝতে পারছি না!বিষয়টি দলের তরফে পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে জানানো হয়েছে।

লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে মুখ থুবড়ে পড়ে তৃণমূল। কোচবিহারেও হেরে যান তৃণমূল প্রার্থী পরেশ অধিকারী। দলের হারে বলির পাঁঠা করা হয় রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে। জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে।

কোচবিহারে তৃণমূলের একাধিক গোষ্ঠী রয়েছে।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই কারণেই জেলায় গোহারা হেরেছে তৃণমূল।তৃণমূলের একাংশের মতে, দলীয় প্রার্থীর হারের পিছনে যাঁরা, তাঁরা দিব্যিই রয়ে গেলেন। অথচ কোপ পড়ল রবীন্দ্রনাথের ঘাড়ে!

তৃণমূলের এই অংশের মতে, পঙ্কজের নামের পাশে বিজেপি লেখা থাকাটাও একটা চক্রান্ত। তাঁর সঙ্গে বিজেপির যোগ রয়েছে, সেই কারণেই দলীয় প্রার্থী হেরেছেন, এমনটাই প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে।তাঁদের প্রশ্ন, না হলে বিরোধী শূন্য জেলা পরিষদে কীভাবে খোদ মন্ত্রীর ছেলেকে বিজেপি সদস্য হিসেবে দেখানো হয়?

25 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here