||গৌতম ভট্টাচার্য||

মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই মোক্ষম চালটি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অর্থমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদটি দিয়েছিলেন ফিকির অমিত মিত্রকে। অমিতের মতো দক্ষ অর্থনীতিবিদ অর্থমন্ত্রীর তখতে বসায় আশার আলো দেখেছিলেন তৃণমূলের কর্মীরাও।

বাম জমানায় অর্থমন্ত্রীর গুরু দায়িত্ব পালন করেছেন অসীম দাশগুপ্ত।তাঁর পদে বসে অমিতের প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল নিজেকে লার্জার দ্যান অসীম প্রমাণ করা। এটা করতে গিয়েই অমিত দলকে ডোবাচ্ছেন বলে তৃণমূলেরই একটি অংশের দাবি।

ক্ষমতায় বসেই অমিত শিল্প সম্মেলনের আয়োজন করে চলেছেন। বাম জমানায় যা হয়নি। এই শিল্প  সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অংশের শিল্পপতিরা হাজির হন।দু দিনের মোচ্ছব শেষে তাঁরা ফিরে যান। এর পরেই রাজ্য সরকারের তরফে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দেওয়া হয়, এবার এত কোটি টাকার শিল্প স্থাপনের আশ্বাস মিলেছে। এবার এত কোটি টাকার শিল্প স্থাপনের আশ্বাস দিয়েছেন অমুক শিল্পপতি।

তার পরে রাজ্যবাসী কি দেখলেন? দেখলেন, ন বছরের মধ্যে অন্তত ছ বার শিল্প সম্মেলন হয়েছে। সম্মেলন উপলক্ষে খরচ হয়েছে কয়েকশো কোটি টাকা। তার পরেও শিল্পের খরা কাটেনি। রাজ্যের কোথাও নতুন কোনও কারখানার একটি ইটও গাঁথা হয়নি বলে অভিযোগউল্টে সিঙ্গুর থেকে চলে গিয়েছেন টাটারা। জমি ফেরত দেওয়া হয়েছে কৃষকদের। টাটারা চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে শিল্পের সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনাশ হয়েছে বলে দাবি বিরোধীদের।

অথচ শিল্প সম্মেলনের পরে পরেই সাংবাদিক সম্মেলন করে অমিত জানিয়ে দেন, এবার এত কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে। তৃণমূলের একটি অংশের দাবি, এভাবে খোদ তৃণমূল নেত্রীকেই বছরের পর বছর ধোঁকা দিয়ে চলেছেন অমিত। শিল্প না হওয়ায় চাকরির বাজার মন্দা। এমতাবস্থায় দলের শিক্ষিত অংশকে ধরে রাখাই মুশকিল হয়ে উঠেছে দলীয় নেতৃত্বের পক্ষে।

চাকরির বাজারে মন্দার গল্প পাখি পড়ানোর মতো করে দলীয় কর্মীদের শুনিয়ে আসছেন মমতাওরাজ্যবাসীকে তিনি তেলেভাজা বিক্রির পরামর্শও দিয়েছেন। দলনেত্রীর এহেন নির্দেশে ক্ষুব্ধ তাঁরাও। তবে অমিতের শিল্প নিয়ে অভয় বাণীতে আশার আলো দেখেছিলেন তাঁরাও। তার পরেও শিল্প না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন দলের শিক্ষিত অংশটি।

২০২১এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় কর্মীদের ক্ষোভ যে বুমেরাং হবে, তার আঁচ পেতে শুরু করেছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বও। তবে অমিতকে সরিয়ে দলের আর কাউকেই ওই পদে বসানোর যোগ্য মনে করছেন না তৃণমূল নেতৃত্ব। তাই অমিতই রয়ে গিয়েছেন অর্থমন্ত্রী পদে।

এই ‘গলার কাঁটা’ নিয়েই ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনেও লড়তে হবে তৃণমূলকে! 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here