দ্য পিপল ডেস্ক : উত্তরপ্রদেশের চিকিৎসক কাফিল খানের গ্রেফতারি অনৈতিক, যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে মুক্তি দেওয়া হোক।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে বড় ধাক্কা খেল উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার।

গত বছর শেষের দিকেই NRC ও CAA নিয়ে সরগরম ছিল ভারত।

আর সেই সময়ই আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে CAA এর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে গিয়ে গ্রেফতার হন ডা, কাফিল খান।

কঠোর জাতীয় সুরক্ষা আইন বা এনএসএ এর আওতায় এনে ২৯ জানুয়ারি উত্তর প্রদেশের এই ডাক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।

ধর্মের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা প্রচারের অভিযোগেই গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি।

এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি জামিন পাওয়ার দুদিন পর আবার জাতীয় সুরক্ষা আইনে অভিযোগ আনা হয়।

এলাহাবাদ আদালতের তরফে জানানো হয়েছে ওইদিন ডাক্তারের বক্তব্যে কোনওরকম ঘৃণা বা সহিংসতার আচরণ বা বক্তব্য উঠে আসেনি।

বর্তমানে তিনি মথুরার একটি জেলে বন্দী রয়েছেন।

১৩ ডিসেম্বর CAA নিয়ে তাঁর বক্তব্যের পর দায়ের করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ডা, কাফিল খান বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে নষ্ট করার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করেছিলেন।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার হাই কোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, ডা, কাফিল খানের বক্তব্যের প্রথম দিকে কোনও ঘৃণা বা হিংসা প্রচারের প্রমাণ মেলেনি।

আরও বলা হয়, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বক্তব্যের সঠিক উদ্দেশ্য উপেক্ষা করে বাছাই করা কিছু শব্দই অভিযোগে তোলা হয়েছিল।

সব বিচার করেই আজ কাফিল খানকে মুক্তি দিতে বলা হয় হাই কোর্টের তরফে। এমনকি তাঁর গ্রেফতারকেও অবৈধ বলে অভিহিত করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর বিআরডি হাসপাতালে একদিনে অক্সিজেনের অভাবে প্রাণ গিয়েছিল ৬০ শিশুর।

ক্ষমতায় আসার চার মাসের মাথায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল ওই হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কাফিল খানকে।

কিছুদিন বাদে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ন’মাসের জন্য জেল হেফাজতেও পাঠায় প্রশাসন।

যদিও পরে কাফিলের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কাফিলের পালটা দাবি ছিল, প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতিকে আড়াল করতেই তাঁকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে উত্তপ্রদেশ সরকারের একটি রিপোর্ট তাঁকে সব বড় অভিযোগ থেকে সরিয়ে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।