দ্য পিপল ডেস্ক : ভারতীয় ক্রীড়াগজতের সব থেকে লজ্জাজনক ঘটনা ঘটে গেল। বর্ণবৈষম্যের স্বীকার খোদ ভারত অধিনায়ক।


শুনতে অবাক হলেও এমনই ঘটনা ঘটল সুনীল ছেত্রী এবং বিরাট কোহলির লাইভ চ্যাট চলাকালীন।


করোনা পরিস্থিতিতে বাড়ির বাইরে বেরোতে না পারায় প্রত্যেক তারকারাই নিজেদের বন্ধুদের সঙ্গে লাইভ চ্যাটে কথা বলছেন।


পুরোনো স্মঋতি উস্কে নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। তেমনই এক অনলাইন চ্যাটে মুখোমুখি হয়েছিলেন ভারতীয় দলের দুই অধিনায়ক।


হঠাত্ই অনলাইন চ্যাট চলাকালীন এক ব্যক্তি সুনীল ছেত্রীর দিকে তীর্যত কমেন্ট করলেন। লিখলেন কে এই নেপালি।


ভারতের বিভিন্ন জায়গায়, পাহাড়ি মানুষদের এই কথাটা শুনতে হয়। যে তারা নাকি নেপাল বা চিন থেকে এসেছেন।


কয়েক মাস আগে পশ্চিমবঙ্গের এক বিশ্ববিদ্যালয়তেও দুই মহিলাকে নেপালি বলায় সমাজের একাংশ গর্জে উঠেছিল। সে তো গেল আমআদমি।


তাই বলে ভারতীয় ফুটবল দলের সর্বকালের সেরার তালিকায় উপরের সারিতে থাকা সুনীল ছেত্রীকেও এমন মন্তব্য শুনতে হল।


ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে যান বিরাট কোহলিও। দেশের হয়ে দশকের পর দশক যিনি নিজেকে উজার করে দিয়েছেন, করেছেন ভারতের জার্সিতে সব থেকে বেশি ৭২টা গোল।


দেশের মাটিতে হোক বা বিদেশের মাটিতে গিয়েও উড়িয়েছেন ভারতীয় ফুটবল দলের জয়ধ্বজা।


সেই সুনীলকেও বর্ণবৈষম্যের স্বীকার হতে হওয়ায় স্বভাবতই হতবাক ক্রীড়ামহল।


সমাজবিদদের বক্তব্য শিশুদের ছোটবেলা থেকেই ঐক্যের বাধন এবং সামাজিক বোধের পাঠ শেখানো উচিত।


যাতে উত্তর-পূর্বের মানুষদের নিয়ে ছোট থেকেই ধারনাটা আর পাঁচ জনের মতো হয়। সুনীল ছেত্রীকে কেউ চেনে না সেটা হতেই পারে।


তবে নেপালি আখ্যাটা আরও একবার প্রকট করে দেখিয়ে দিল ভারতীয় সমাজ ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছে।


অভিযুক্ত ব্যক্তির এই কমেন্টের পরই তাঁকে রিপোর্ট করেন বিভিন্ন মানুষ। এরপর তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়।