অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা

দ্য পিপল ডেস্কঃ চাষের জন্য সরকারিভাবে পাঠানো মাছের খাবার চুরি করে বিক্রির অভিযোগ উঠল তৃণমূলের এক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং থানার দিঘিরপাড় এলাকায়।

অভিযোগ, কয়েকশো বস্তা মাছের খাবার অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা আতিয়ার রহমান সরদার চুরি করে বিক্রি করছিল। সঙ্গে ছিল ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির পঞ্চায়েত সদস্য স্ত্রী আনজুরা বিবিও ।

সূত্রের খবর, এর আগেও বহু দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল এই নেতার বিরুদ্ধে। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখিয়ে পুরো বিষয়টা ধামাচাপা দেওয়া গেছে। কিন্তু এবার সম্ভব হয়নি।

সূত্রের খবর, লকডাউনের মধ্যেই রবিবার সামাজিক দূরত্ব না মেনে কয়েক হাজার মানুষ ওই তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে চড়াও হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।

এক একটি বস্তা ২২০০ টাকা দরে বিক্রি করার সময় গ্রামবাসীরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। ৫০ কেজি ওজনের এই বস্তাগুলি মৎস্যচাষিদের দেওয়ার জন্য সরকার নির্দেশ দিলেও সেগুলো মূলত নেতারাই বিক্রি করে দিচ্ছেন এমনটা অভিযোগ গ্রামবাসীদের।

তবে ক্যানিংয়ের মৎস্য দপ্তরের আধিকারিকের নজর ছাড়া কি করে বস্তা বস্তা মাছের খাবার বিক্রি হচ্ছে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। ক্যানিং ব্লকের মৎস্য আধিকারিক অরুণ দেব বলেন, যে খাবারগুলো চুরি করে বিক্রি হচ্ছিল ওগুলো সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদ থেকে পাওয়া মাছের খাবার।

স্থানীয় মানুষজন এদিন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে বেধড়ক মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

বিক্ষোভকারী গ্রামবাসী বাবলু শেখ রাজ্জাক তরফদার বলেন,গরিব মৎস্যজীবীদের দেওয়ার জন্য সরকার মাছের খাবার দিয়েছে আর ওই নেতা তা বেআইনিভাবে বিক্রি করছিল। আমরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলি। পুলিশের হাতে তুলে দিই।

অন্যদিকে চুরি করে মাছের খাবার বিক্রি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতা আতিয়ার রহমান সরদার। তার দাবি, চুরি করে মাছের খাবার বিক্রি করেনি। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্থানীয় মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়ে ওই তৃণমূল নেতা সহ আরও দুই অভিযুক্তকে আটক করে ক্যানিং থানার পুলিশ। প্রায় ঘণ্টাখানেক বিক্ষোভের পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।