দ্য পিপল ডেস্কঃ ছোটবেলায় সংস্কৃত ক্লাস থেকে পালিয়ে বাঁচতে চাইত অনেকেই। কেমন যেন এক অজানা ভয় বিষয়টা ঘিরে। কিন্তু এসব তাঁদের কাছে নস্য। আর সে কারণেই তাঁরা এখনও সংস্কৃতেই কথা বলেন। তাঁরা কারা? তাঁরা কর্ণাটকের মাত্তুর গ্রামের বাসিন্দা।

হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন আপনি। একটা গোটা গ্রামের মানুষের মুখের ভাষা সংস্কৃত। এখানে কথা বলা, পড়াশোনা এমনকী দোকান-বাজারের ব্যবহারিক ভাষাও সংস্কৃত। স্কুলের নাম, দোকানের নাম, বিজ্ঞাপনের ব্যানারও সংস্কৃত হরফ দেবনাগরীতে লেখা হয়।

শুধু ভাষাই নয়, এখানকার মানুষের পোশাক, বাড়িঘর সবই যেন বৈদিক ধাঁচে। স্কুল দেখতেও প্রাচীন কালের টোল বা পাঠশালার মতো।

এখানে ভর্তির শুরু থেকে প্রথম পাঁচ বছর সংস্কৃত পড়া বাধ্যতামূলক। সেসময় তালপাতায় লেখা ও পুঁথি পড়ানো হয়। ইতিহাস হোক বা বিজ্ঞান সমস্তই পড়ানো হয় সংস্কৃত ভাষায়।   

সেকারণেই এখানকার বাচ্চা থেকে বুড়ো, শ্রমিক থেকে সবজি বিক্রেতা সব্বাই সংস্কৃত জানেন। তা বলে এখানের মানুষেরা যে আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে একেবারেই বঞ্চিত তা কিন্তু নয়।

এখানকার মানুষেরাও মোবাইল ব্যবহার করেন, তবে তাতেও কথা বলেন সংস্কৃতেই। তাই বলে যে এখানকার মানুষ অন্য কোনো ভাষা জানেন না বা শেখেন না তা কিন্তু নয়। কর্ণাটকের ভাষা কন্নড়, ইংরেজি সব ভাষাতেই পারর্দশী এখানকার পড়ুয়ারা।

উল্লেখ্য, দেখা গেছে অন্যান্য অনেক গ্রামের তুলনায় মাত্তুরের শিক্ষার হার বেশি। গ্রামবাসীদের মত, এখানকার প্রত্যেকে পাঠশালায় পড়তে যায়। আর সেখানে সংস্কৃত ভাষার ব্যবহার পড়ুয়াদের অঙ্ক, দর্শন, ইতিহাস সম্পর্কে বিশেষ শিক্ষা দেয়। যা শিশুদের যুক্তিবোধ সেই সঙ্গে আমাদের ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞান দেয়।

বৈদিক রীতিতে পড়াশোনা করলেও মাত্তুরের অনেক ছেলেমেয়ে বিদেশে পড়াশোনা করেন। কর্ণাটকে অন্যান্য গ্রামের তুলনায় এই গ্রামে উচ্চশিক্ষিতের সংখ্যাও অনেক বেশি।

তবে কবে থেকে এর শুরু? সেই প্রাচীনকাল থেকেই কী? না। এর শুরু মাত্র কিছু বছর আগে। ১৯৮১ সাল থেকে। সংস্কৃত ভারতী নামে একটি সংস্থা এই গ্রামে একটি সেমিনার করেছিল ১০ দিনের জন্য। সেখানেই ধ্রুপদী ভাষা সংস্কৃত নিয়ে উত্সাহ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই এই গ্রামের মানুষেরা সংস্কৃতে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here