দ্য পিপল ডেস্কঃ মরশুম দেড় মাস আগেই শেষ হয়ে গেলেও এতদিন করোনা ভাইরাসের জেরে কলকাতাতেই আটকে থাকতে হয়ছে তাঁদের। ইস্টবেঙ্গলের মারিয়া থেকে মোহনবাগানের কিবু, কেউই বাড়ি ফিরতে পারেননি।

৩১ মে পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছে একমাস আগেই। ফলে চুক্তি শেষ হয়ে গেছে তাঁদের, তবে বাড়ি ফেরার কোনও ব্যবস্থা না থাকায় এতদিন কলকাতাতেই থাকতে হয়েছিল দুই ক্লাবের ফুটবলারদের।

দুই ক্লাবের স্প্যানিশ ফুটবলাররা স্পেনের দূতাবাসে অনুরোধ জানান, তাঁদের ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। অনেক টালবাহানার পর শেষমেষ তাঁদের ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় স্প্যানিশ দূতাবাস।

পাশাপাশি বিশেষ বিমানের ব্যবস্থাও করে দেয় স্প্যানিশ দূতাবাস। এরপরই রবিবার সকালে কলকাতা ছাড়েন ফুটবলাররা। ছিলেন মোহনবাগান দলের সদস্য ফ্রান গঞ্জালেজ, জোসেবা বেইটিয়া, ফ্রান মোরান্তেরা।

ছিলেন বাগান কোচ কিবু ভিকুনাও। সকলেই রবিবার কলকাতা ছাড়লেন। মার্কোস, জাইমে, জুয়ানের পাশাপাশি কলকাতা ছাড়লেন এদিন ইস্টবেঙ্গল কোচ মারিও রিভেরা।

অন্য বছর এই সময়ে চুটিয়ে খেলা চলে কিন্তু করোনা ভাইরাসের জেরে সমস্ত খেলাই এখন বন্ধ। ফলে একমাস আগেই কলকাতা ছাড়লেন তাঁরা। এতদিন আটকে থাকার পর শেষমেষ দেশে ফিরতে পারে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন ফুটবলাররা।

যদিও মোহনবাগান ফুটবলারদের মন খারাপ আই লীগ জিতলেও এখনও ট্রফি ছুঁয়ে দেখা হয়নি, সমর্থকদের সঙ্গে ট্রফি নিয়ে আনন্দ করাও হয়নি। দলকে চ্যাম্পিয়ন করেও ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে না পারার হতাশা নিয়েই আপাতত দেশে ফিরছেন মোহনবাগান ফুটবলাররা।

আগামী বছরে হয়তো মোহনবাগানে থাকবেন না তাঁরা। কিবু বিকুনার হাত ধরে ইতিমধ্যেই কেরালা ব্লাস্টার্স-এ কথা পাকা হয়ে গেছে তাজিকিস্তানের ফুটবলার কমরণ তুর্সুনভের। বাকিরাও অন্য ক্লাবে কথা বলছেন।

ফলে আগামী বছরে হয়তো আর দেখা যাবে না মোহনবাগানের বেইতিয়া, গঞ্জালেজদের কলকাতায় খেলতে। তাই বিদায়বেলায় লকডাউনের মধ্যেও দলের স্প্যানিশ ব্রিগেডের সঙ্গে দেখা করে আসেন মোহনবাগানের দুই শীর্ষ কর্তা সৃঞ্জয় বসু এবং দেবাশীষ দত্ত।

সাবধানে বাড়ি যাওয়ার পরামর্শ দেন ফুটবলারদের। মন খারাপের মাঝেও কর্তাদের থেকে এহেন ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত মোহনবাগান ফুটবলাররা। শহর ছাড়ার আগে আরও একবার বলে যান, এই শহরে ও মোহনবাগান ক্লাব এবং সমর্থরা আজীবন তাঁর হৃদয়ে থাকবে।

কলকাতা থেকে দিল্লি হয়ে স্পেনে পৌছাবে তাঁদের বিশেষ বিমান।