।।গৌতম ভট্টাচার্য।।

শেষমেশ বোধহয় ঢোকই গিলতে হচ্ছে তৃণমূল সুপ্রিমোকে। রাজ্যসভায় তিনি ফের কুণাল ঘোষকেই পাঠাচ্ছেন বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। এনিয়ে দলের অন্দরেও দানা বাঁধছে গুঞ্জন। যে কুণাল খোদ দলনেত্রীর কুতসা রটালেন, তাঁকেই কেন ফের রাজ্যসভার টিকিট? উঠছে প্রশ্ন।

রাজ্যে পালাবদলের আঁচ পেয়ে তৃণমূলে ভিড়ে যান সাংবাদিক কুণাল। দ্রুত ঢুকে পড়েন মমতার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে।পুরস্কার স্বরূপ রাজ্যসভার সাংসদ করা হয় তাঁকে।

সারদাকাণ্ডে নাম জড়ায় কুণালের। গ্রেফতারও হন এর পরেই দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। গ্রেফতার হওয়ার পরেই কুণাল স্বরূপ বের করেন বলে অভিযোগ। তৃণমূল নেত্রীকে গ্রেফতারের দাবিও জানান। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বেশ কিছুদিন কুণালকে আর কালীঘাটে যেতে দেখা যায়নি।

সম্প্রতি ফের কুণাল দলনেত্রীর কাছাকাছি চলে আসেন। সূত্রের খবর, এর পরেই তাঁকে আবারও রাজ্যসভায় পাঠানোর তোড়জোড় করতে থাকেন মমতা। মুকুল রায় বিজেপিতে চলে যাওয়ার পর পরামর্শদাতার প্রয়োজন হয়ে পড়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর। কুণালই সেই জায়গাটা ভরাট করছিলেন। কুণাল ফের কালীঘাটের কাছাকাছি চলে আসায় ভরসা পান কুণাল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই কারণেই কুণালকে টিকিট দেওয়ার ভাবনা।

কুণালকে টিকিট দেওয়া হতে পারে শুনেই দলের অন্দরে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলেরই একটি অংশ। যে কুণাল খোদ দলনেত্রীকে অপমান করেছিলেন, তাঁকে কেন ফের রাজ্যসভার টিকিট দেওয়ার ভাবনা, প্রশ্ন তাঁদের। ২০২১এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে কুণাল যে জার্সি বদলাবেন না, সেই গ্যারান্টি কে দেবেন? এ প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।

বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে রাজ্যসভার চার আসনে জয় নিশ্চিত তৃণমূলের। তার মধ্যেই একটির জন্য কুণালের নাম বিবেচনা করছেন তৃণমূল নেত্রী।

তবে কুণালের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, টিকিট পাচ্ছেন না কেডি সিং। ঝাড়খণ্ড থেকে তাঁকে নিয়ে এসে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন মমতাইসারদা-নারদকাণ্ডের পর কেডি-র ওপর বেজায় খাপ্পা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই কারণেই এবার বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁকে।কেডি-র জায়গায় পাঠানো হতে পারে দীনেশ ত্রিবেদীকে। ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে ধরাশায়ী হন দীনেশ।তাই দীনেশকে রাজ্যসভায় পুনর্বাসন দেওয়া হতে পারে।

রাজ্যসভায় একজন বুদ্ধিজীবীকেও এবার পাঠাতে পারেন মমতা। সেক্ষেত্রে সুযোগ পেতে পারেন চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন কিংবা যোগেন চৌধুরী। যেহেতু সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে শুভাপ্রসন্নের নাম জড়িয়েছে, সেহেতু যোগেনের কপালেই ছিঁড়তে পারে রাজ্যসভার টিকিটের শিকে। মণীশ গুপ্ত এবং আহমেদ হাসান ইমরানকে নিয়ে টানাপোড়েন চলছে বলেও তৃণমূল সূত্রের খবর। আহমেদ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। তাই শেষমেশ তাঁকেই টিকিট দেওয়া হতে পারে।

এখন দেখার, নববর্ষে সাংবাদিক-রাজনীতিকের কপাল খোলে কিনা!

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here