দ্য পিপল ডেস্ক : সুশান্ত সিং রাজপুতের রহস্য মৃত্যুর জটিলতা ক্রমশ বাড়ছে। আত্মহত্যা নাকি নিছকই খুন, তা নিয়ে এখনও ধন্দ কাটেনি।


এই পরিস্থিতিতে কিছুদিন আগেই বেশ কয়েকটি অভিযোগ এনে সুশান্তের প্রেমিকা মডেল রিয়ার বিরুদ্ধে পাটনার রাজীব নগর পুলিশ স্টেশনে এফআইআর দায়ের করে।


সূত্রের খবর, এরপর থেকে হঠাতই নিখোঁজ হয়ে যান রিয়া।


রিয়া আর সুশান্তের এই মামলাটি বর্তমানে বিহার ও মহারাষ্ট্র এই দুই রাজ্যের কোর্টে চলছে।


জানা গিয়েছে, বিহার থেকে মামলাটি মুম্বইতে স্থানান্তরের জন্য সুপ্রিমকোর্টে আবেদন করেছিলেন রিয়া।


তবে বিহার সরকার রিয়ার ওই আবেদনের বিরোধিতা করেছে।


সুশান্ত মামলায় বিহার আদালতের সিনিয়র বিচারক মুকুল রোহাতগি বিহার সরকারের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন বলে জানা গিয়েছে।


বিচারক মুকুম রোহাতগী এই মামলায় নিয়োগ হওয়ার পর থেকে অনেক নতুন মোড় এসেছে।


বিহার পুলিশ সুশান্তের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলো খতিয়ে দেখে রিয়া চক্রবর্তীর বাড়িতে গিয়েছিল।


সুশান্তের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সন্দীপ শ্রীধর জানান, সুশান্তের পরিবারের অভিযোগ করেছে ঠিকই কিন্তু খুব বেশি পরিমাণ টাকা রিয়ার ব্যাঙ্কে স্থানান্তর করা হয়নি। সুশান্তের ব্যাঙ্কে অত টাকাও ছিল না, যা তার পরিবার দাবি করেছে।

ইদানিং তার উপার্জন অনেক কমে গিয়েছিল। তাই ৬ কোটির বেশি টাকা তার অ্যাকাউন্টে ছিল না।


বিহার পুলিশের পাশাপাশি মুম্বই পুলিশও সুশান্তের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উপর নজরদারি চালাবে।


রিয়া চক্রবর্তী সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, তিনি দীর্ঘ ১ বছর ধরে সুশান্তের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। সুশান্ত হতাশায় ভুগছিলেন বলেও জানান রিয়া চক্রবর্তী।


সুশান্তের বন্ধু তথা কন্টেন্ট ম্যানেজার সিদ্ধার্থ পিঠানি একটি মেলের মাধ্যমে অভিযোগ করেন, রিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যে বলার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। কে বা কারা এ কাজ করছে তা তিনি জানাননি।


মেল পাওয়ার পর বিহার পুলিস সিদ্ধার্থ পিঠানির বক্তব্য রেকর্ড করবে বলে জানিয়েছে, যদিও এর আগে মুম্বই পুলিশ তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করেছিলেন।


সুপ্রিম কোর্টে রিয়ার আবেদন প্রভাবিত করার জন্য রিয়া সুশান্তের এক আত্মীয়কে যুক্ত করেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।


বৃহস্পতিবার রাতে সুশান্তের প্রাক্তন বান্ধবী অঙ্কিতা লোখান্ডের জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে, সেখানে তিনি বলেছিলেন, সুশান্ত যে হতাশায় ভুগতে পারে, তা তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না।


ডা, সুব্রহ্মনিয়ম প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্বিতীয়বার চিঠি লিখে সুশান্তের বিষয়ে সিবিআই তদন্ত দাবি করেছিলেন।


প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ টুইট করে সিবিআই তদন্তের দাবি জানান।


সুশান্তের মৃত্যুর সিবিআই তদন্তের জন্য প্রত্যেকে দাবি করলেও রাজ্য সরকারের এরূপ অনীহা সকলকে ভাবাচ্ছে।