বুলটি পাল, ফ্রেজারগঞ্জ

সবে তার পুতুল খেলার বয়স। তার এমনও বয়স হয়নি যে সে দোকানে বসবে। পাড়ায় তার বন্ধুদের নিয়ে পুতুল খেলাতে সে মত্ত থাকে প্রায় সময়। সে জানে না দোকান কি।

কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস ছোটবেলাতে বাবাকে হারিয়েছে। কোলে একখানা ভাই। মায়ের মুখে ভাষা নেই।

স্থানীয় স্কুলে মেয়েটি ক্লাস সেভেনে পড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সে জানায় এইসব কথা।

সে আরো বলে, আম্ফানের প্রবল বাতাসে বঙ্গোপসাগরের নদীর জলের ঢেউ পাড়ে আছড়ে পড়ছে।

দেখলাম মুহুর্তের মধ্যে নদীগর্ভে তলিয়ে গেল তিনটে দোকান। এই দোকানটি এখনও তলিয়ে যায়নি ঠিকই কিন্তু যে কোনও সময় তলিয়ে যাবে।

একদিকে করোনার থাবা। অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের দাপট। সুন্দরবন, ফ্রেজারগঞ্জের মানুষদের একেবারে স্বর্বস্ব নিয়ে গেছে।

সামান্য যাকিছু বেঁচেছিল তা দেখে সেখানকার মানুষ ভেবেছিল এবারের মতো হয়তো বেঁচে গেছি। কিন্তু না মারণ খেলা এখনও শেষ হয়ে যায়নি।

তখন কোনও মতো যা বেঁচে গেছিল তা এখন একটু করে ক্ষয়ে যাচ্ছে। দোকানপাট, মন্দির, মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে যাচ্ছে। এমনই এক দৃশ্য দেখা গেল ফ্রেজারগঞ্জে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় দোকানদার বলেন, আম্ফানের সময় আমাদের কাছে ঘরবাড়ি এমনকি দোকান নিয়ে আতঙ্ক দানা বেঁধেছিল।

আশা করেছিলাম আমাদের এই শেষ সম্বল যেটা আমাদের কাছে রুজি রোজগারের একটা জায়গা, সেটা হয়তো নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে।

কিন্তু কোনও কারণে তখন বেঁচে গেছে। ভেবেছিলাম, বুঝি আমরাও বাঁচলাম। কিন্তু বাঁচতে আর পারলাম কই! একটু একটি করে শেষ সম্বলটা তলিয়ে যাচ্ছে।

জানিনা আগামী দিনে কি হবে!