চিকিৎসা পেল না ক্যান্সার আক্রান্ত, রাতভর রাস্তায় রোগীরা

0
50

দ্য পিপল ডেস্ক: কলকাতা সহ রাজ্য জুড়ে বন্ধ হাসপাতাল পরিষেবায় বিপাকে পড়লেন রোগীরা। মঙ্গলবার এনআরএস হাসপাতালে জুনিয়ার ডাক্তারকে নিগ্রহে রাজ্য জুড়ে কর্মবিরতির ডাক দেয় জুনিয়র ডাক্তাররা।

ফলে বন্ধ হয়ে যায় এন আর এস সহ এসএসকেএম, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, আর জি কর, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের পাশাপাশি রাজ্যের বেশ কিছু সরকারী ও বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ।

রাজ্যের শুধুমাত্র কলকাতা নয় একই পথে পা মিলিয়েছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বাঁকুড়া মেডিকেল কলেজ, উত্তরবঙ্গ সহ একগুচ্ছ বেসরকারী ও সরকারী হাসপাতালগুলি ।

একদিকে আউটডোর পরিষেবা বন্ধ, অন্যদিকে এমার্জেন্সি চালু রাখার কথা বলা হলেও আদতে সেই চিত্রটা অন্য । এমনকি হাসপাতালে এলে রোগীর পরিজনদের মারধর করে বের করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে ।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের বিভিন্ন ফটকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তালা। বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় ফটকগুলি।সাপে কামড়ানো রোগীকেও ফিরে যেতে বাধ্য করে হাসপাতালের স্টাফরা বলে অভিযোগ।

ফলে শয়ে শয়ে রোগীর জীবন এখন প্রশ্নের মুখে । এমন এক ঘটনারই সম্মুখীন হলে মুর্শিদাবাদ থেকে আসা করিম শেখ ।

তিনি স্ত্রীকে নিয়ে এদিন আসেন হাসপাতালে । পেটে ব্যথা, বমি এবং ধূম জ্বর গত ৭-৮ দিন ধরে । বিভিন্ন চিকিৎসক ফিরিয়ে দেওয়ায় শেষে তাঁরা আসেন এন আর এসে । অথচ, অচলাবস্থার জন্য ফিরে যেতে হয় তাঁদের ।

অন্যদিকে, ক্যান্সারে আক্রান্ত বাবাকে নিয়ে ক্যালকাটা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান বাঁকুড়ার রমেশ মণ্ডল ।

চিকিৎসকেরা জবাব দিয়ে দিয়েছে । কেমোথেরাপি করাতে হবে । রমেশবাবুর কথায়, আমরা চাষবাস করে খাই । বাবার গলায় ক্যান্সার ধরা পড়ার পর থেকেই জমি-জমা সবই ঘুচে গিয়েছে ।

ডাক্তারে বলেছে, কেমো শুরু করতে । অথচ, ক্যান্সারের চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য নেই তাঁদের । তাই সরকারী সহায়তায় বাবার কেমো দিতে হাসপাতালে এসেছিলেন তিনি ।

সারাদিন ধরে মুমূর্ষু বাবাকে নিয়ে রাস্তার ধারে গাছের তলাতেই কাটাতে হল রমেশকে ।

রাত গড়িয়ে সকাল হল । পুবের আকাশ সিঁদুর লাল । তবুও, দেখা নেই কোনও ডাক্তারের । ভ্রূক্ষেপ নেই কারোর ।

ধুন্ধুমার, অগ্নিগর্ভ নামের নানা শব্দ সে শুনেছে টিভিতে । কিন্তু, বাবা না বাঁচলে তার জীবনে অন্ধকার নেমে আসবে । তা খুব ভালো মতোই জানেন রমেশ ।

সূর্যের চোখ রাঙানি বাড়ছে । পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হাসপাতালের শুনশান অবস্থাটাও । রমেশ সঙ্গী পেয়েছে তার মতোই আরও বেশ কয়েকজনের । যারা, সারারাত কাটিয়েছে রাস্তাতে শুয়েই । হাসপাতাল চত্বর বা বিছানা নয় । রমেশদের মতোই বহু রোগীদের জুটেছে গনগনে পিচের রাস্তা কাঠিন্য ।

মঙ্গলবার ও বুধবার মিলিয়ে সারা রাজ্যে চিকিৎসা পরিষেবার হাল ছিল অনেকটা এইরকমই । সেই সুযোগে বেশ কিছু টাকা হাঁকিয়ে ব্যবসা বাড়িয়ে নিল যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা কিছু নার্সিং হোম ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here