দাপিয়ে বেড়ালেন আরাবুল, মাস্টারহীন শাসন!

0
149

দ্য পিপল ডেস্কঃ সপ্তম তথা শেষ দফা নির্বাচনে কার্যত দাপিয়ে বেড়ালেন ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম। আর নির্বাচনের উত্তেজনার আঁচ থেকে যোজন দূরে রইলেন এক সময় শাসনের ত্রাস মাজিদ মাস্টার।

পাওয়ার গ্রিড তৈরিকে কেন্দ্র করে এক সময় অশান্ত হয়ে উঠেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। গ্রিড বন্ধ করতে গড়ে ওঠে জমি-জীবিকা-বাস্তুতন্ত্র রক্ষা কমিটি। কমিটির তীব্র আন্দোলনের জেরে বন্ধ হয়ে যায় গ্রিডের কাজ। তার পর থেকে তৃণমূল নয়, ভাঙড়ে সক্রিয় জমি-জীবিকা-বাস্তুতন্ত্র রক্ষা কমিটি।

ভাঙড় এলাকাটি যাদবপুর লোকসভার মধ্যে পড়ে। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী রূপোলি পর্দার জনপ্রিয় নায়িকা মিমি চক্রবর্তী। বিজেপির প্রার্থী অনুপম হাজরা। আর বামেদের প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এই কেন্দ্রে কংগ্রেসেরও প্রার্থী রয়েছেন। তবে মিমির মূল প্রতিপক্ষ বিকাশরঞ্জন।এই বিকাশরঞ্জনকেই সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জমি-জীবিকা-বাস্তুতন্ত্র রক্ষা কমিটি। স্বাভাবিকভাবেই ভাঙড়ের দিকে নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের।

জমি রক্ষা কমিটি বাম প্রার্থীকে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিতেই নড়েচড়ে বসেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের বিরুদ্ধে অতি সক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠছে তৃণমূল নেতা খোদ আরাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে। রাতেও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আরাবুল বাহিনী ভয় দেখিয়েছে বলে অভিযোগ।

আরাবুল বাহিনী দাপিয়ে বেড়ালেও নির্বাচনের উত্তাপ থেকে যোজন দূরে রইলেন বাম জমানার দাপুটে নেতা মাজিদ মাস্টার। এক সময় শাসনের এই নেতার নামে বাঘে-গোরুতে এক ঘাটে জল খেত। মাস্টারের বাহিনী ভোট করাত দাপিয়ে। তাদের নির্দেশ মেনেই ভোট দিতে হত। বামদুর্গে ধস নামার পরে এলাকার দখল নেয় তৃণমূল। ভয়ে ঘর ছাড়েন মাস্টার।

বাম জমানায় ভোটের সময় নাওয়া-খাওয়া ভুলে পার্টির কাজ করে বেড়াতেন মাস্টার। বিভিন্ন জনসভায় বক্তৃতা দেওয়া, ভোট কীভাবে হবে, তার ছক কষা সবই একাহাতে করতেন মাস্টার। এহেন রাজনীতি প্রিয় মানুষটি এবার ভোটে অংশই নিলেন না। বাড়িতেও যাননি মাস্টার। পাছে অশান্তি হয়। আর পাঁচটা দিনের মতোই রবিবারটাও বই পড়েই কাটিয়ে দিলেন ছাত্রছাত্রীদের প্রিয় মাস্টারমশাই।

আগে পার্টির কাজের পাশাপাশি নিয়মিত যেতেন স্কুলেও। অবসরের পর স্কুলে যাওয়ার তাড়া নেই। নেই সংসারের দায়-দায়িত্বও।পার্টির লোকজনও এখন আর তেমন আসে না। অগত্যা বই পড়েই অবসর কাটান মাস্টার। হয়তো এখনও খুঁজে বেড়ান মার্কসবাদের বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে সম্ভব। হয়তো চোখের সামনে খোলা বইয়ের দিকে তাকিয়ে ভাবেন, একদিন ঝড় থেমে যাবে, পৃথিবী আবার শান্ত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here