গৌতম ভট্টাচার্য

রদবদল হতে চলেছে রাজ্য বিজেপিতে।অন্তত গেরুয়া শিবির সূত্রে এমন খবরই মিলেছে। সূত্রের খবর, কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে সরিয়ে রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষকের পুরো দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে অরবিন্দ মেননের ওপর। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত করবেন মুকুল রায়। তিনিই হবেন রাজ্য বিজেপির সহকারী পর্যবেক্ষক। গেরুয়া শিবির সূত্রের খবর, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মুকুল লাইনকেই সমর্থন করছেন। তাই গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে চাণক্যের।

২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে চাইছেন বিজেপি নেতৃত্ব।ত্রিপুরা দখলের পর পদ্ম শিবিরের লক্ষ্য এবার বাংলা। এই বাংলা দখল করতেই ঢেলে সাজানো হচ্ছে সংগঠন।

বিজেপি সূত্রের খবর, তৃণমূলকে শেষ করতে অনেক আগেই মুকুলকে বাড়তি দায়িত্ব দিতে চেয়েছেন পদ্মশিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব।নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি।তবে এবার তা হবে। এবং সেটা পুজোর পরেই। রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষকের পদ থেকে কৈলাসকে সরিয়ে বসানো হবে অরবিন্দকে। আর কৈলাসকে দেওয়া হবে অন্য দায়িত্ব।

বিজেপিতে মুকুলের গুরুত্ব যে বাড়ছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে দিন কয়েক আগেই। উলুবেড়িয়ায় সঙ্ঘের সভায় এসে সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত দল পরিচালনায় মুকুল লাইনকেই সমর্থন করেছেন। আবার নেতাজি ইন্ডোরের সভায় অমিত শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধু আবেগ দিয়ে নয়, দল চালাতে কৌশলও লাগে। তৃণমূল দলটাকে যাঁরা চেনেন, তাঁদের ওপর বেশি করে ভরসা করার কথাও বলেন অমিত। এর পরেই মুকুলের দায়িত্ব বৃদ্ধির ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে যায় জলের মতো।

পদ্মশিবির সূত্রের খবর, রাজ্য বিজেপির সাংগঠিনক সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর জায়গায় বসানো হতে পারে সঙ্ঘের নেতা জিষ্ণু বসুকে। মোদি ঘনিষ্ঠ সংঘ নেতা বিধান করকেও সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

তবে বিজেপির সভাপতির পদ থেকে এখনই সরানো হচ্ছে না দিলীপ ঘোষকে।নানা কারণে তাঁর ওপর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব খানিকটা অসন্তুষ্ট হলেও আপাতত স্বপদেই বহাল থাকছেন তিনি। তবে কার্যকরী সভাপতি হিসেবে একজনকে নিয়োগ করা হবে। বিধানসভা নির্বাচনে এই কার্যকরী সভাপতির নেতৃত্বেই লড়বে গেরুয়া শিবির।

গেরুয়া শিবির চাইছেন, কার্যকরী সভাপতি হবেন উচ্চশিক্ষিত মার্জিত এবং রুচিশীল। সংঘের কাজকর্ম সম্পর্কে তাঁর সম্যক ধারণা থাকবে। আবার তৃণমূল দলটাকেও হাতের তালুর মতো চিনবেন। এঁকে সামনে রেখেই বিধানসভা নির্বাচনে ধরাশায়ী করা যাবে মা-মাটি-মানুষের দলকে।

কার ভাগ্যে ছিঁড়বে কার্যকরী সভাপতির শিকে? লাখ টাকার প্রশ্ন আপাতত এটাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here