বিরাট-সচিনের সামঞ্জস্য বিশ্বকাপের মঞ্চে

0
74

দ্য পিপল ডেস্কঃ বাকি মাত্র চার দিন। শুরু হয়ে গিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন। আর ক্রিকেট মানেই ভারতীয়দের মধ্যে পাগল করা অনুভূতি।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্ত হয়েছে খেলার ধরন। ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে ভগবানের নামও বদলেছে।  সচিন থেকে বদলে হয়েছে বিরাট কোহলি। চলতি সময়ের বিরাটের পারফরমেন্সে মুগ্ধ হয়ে সচিনের স্থানে বসানো হচ্ছে বিরাটকে।  

বিরাট-সচিনের সামঞ্জস্য -দেখে নেওয়া যাক এক নজরে

অনেক সময়ই বিরাট-সচিনের মধ্যে তুলনা করা হয়। যদিও এই বিষয়ে বরাবরই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিং কোহলি। কিন্তু দেখা গেছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিরাটের সঙ্গে সচিনের মিল রয়েছে অনেকই।

কোন কোন ক্ষেত্রে মিল হয়েছে আসুন দেখে নেওয়া যাক-

  ১. বিশ্বকাপে প্রথম নট আউট শতরানঃ

বিশ্বকাপের মঞ্চে সচিন তেন্ডুলকর ও বিরাট কোহলি উভয়ই প্রথম শতরানে নট আউট ছিলেন।  

১৯৯২ থেকে মোট ৬টি বিশ্বকাপ খেলেছেন মাস্টার ব্লাস্টার । অপর দিকে ২০১১, ২০১৫ সালের পর এবার তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন বিরাট ।

২০১১ সালে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথম শতরান করেছিলেন বিরাট।

সেই ম্যাচে ৮টি চার ও ২টি ছয়ের দৌলতে প্রথম শতরান তোলেন তিনি।

অপরদিকে, ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিরুদ্ধে ২০০ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে দুর্ধর্ষ শতরান করে ম্যাচ জিতিয়ে আনেন সচিন।

বিরাট ও সচিন উভয়ই তাঁদের প্রথম শতরানে অপ্রতিরোধ্য ছিলেন ।

২.  বিশ্বকাপে অভিষেকের পূর্বে সমসংখ্যক অর্ধশতরানঃ

বিরাট-সচিনের সামঞ্জস্য 03

সচিন ও বিরাট উভয়ই ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা । এই দুই মহারথীরই বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখার আগে  ১২টি করে অর্ধশতরান ছিল।

১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় জার্সিতে অভিষেক হয় মাস্টার ব্লাস্টারের। তার ৩ বছর পর ১৯৯২ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন তিনি।

তাঁর আগেই ঝুলিতে ছিল মোট ১২টি অর্ধশতরান।

অপরদিকে ২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে  অভিষেক হয়েছিল বিরাটের। তার ৩ বছর ২০১১তে প্রথম বিশ্বকাপ। তাঁরও ঝুলিতে ছিল ১২টি অর্ধশতরান।

৩.  বিশ্বকাপে প্রথম ম্যান অফ দ্য ম্যাচ অ্যাওয়ার্ডঃ

বিরাট-সচিনের সামঞ্জস্য 02

মজার ঘটনা সচিন ও বিরাটের বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম ম্যান দ্য ম্যাচ অ্যাওয়ার্ড জয় চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।  

১৯৯২ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সচিনের অর্ধশতরানের দৌলতে ম্যাচ জিতে ছিল ভারত। সেই ম্যাচে প্রথম ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পান তিনি।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে, ২০১৫ সালে প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিরাটের শতরানের কাঁধে ভর করে ৩০০ রানের দোরগোড়ায় পৌঁছেছিল ভারত।

সেই ম্যাচে ২৪ রানে জয় পায় মেন ইন ব্লুজ। বিরাটের দুর্ধর্ষ শতরানের ইনিংসের জন্যই তাঁকে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।  

৪. প্রথম বিশ্বকাপে রান সংখ্যাঃ

বিরাট-সচিনের সামঞ্জস্য 01

সচিন ও বিরাট উভয়ই তাঁদের কেরিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপে মোট রান সংখ্যা একে অপরের পাশাপাশি।

১৯৯২ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন সচিন। সেই বিশ্বকাপে কোনও শতরান না করলেও ৮ টি ম্যাচ খেলে  ২টি অর্ধশতরানের দৌলতে ২৮২ রান করেন তিনি।

অপরদিকে, বিরাটের রান সংখ্যা সমান না হলেও কিন্তু অনেকটা কাছে।

২০১১ প্রথম বিশ্বকাপে ১১টি ম্যাচে একটি শতরান ও অর্ধশতরানের দৌলতে মোট ২৮৩ রান করেন বিরাট কোহলি।

বিরাট-সচিনের সামঞ্জস্য থাকলেও, দুজনেই ভিন্ন স্টাইলের খেলোয়াড়, ভিন্ন সময়ের খেলোয়াড়। কখনোই একজনকে অপরের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here