দ্য পিপল ডেস্কঃ Wǒ shì yīgè níbó’ěr rén !

অদ্ভুত লাগছে তো ? মনে হচ্ছে হিজিবিজি হযবরল এই কথার মানে কী

অথচ এই শব্দগুলি এখন ভারত সীমান্ত এলাকার খুদে পড়ুয়াদের মুখে মুখে ঘুরছে। তাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনায় এরকমই কিছু শোনা যাচ্ছে।

অবাক করা এই শব্দগুলোর সমষ্টি করলে হয়- আমি একজন নেপালি নাগরিক। আর ভাষাটি হল চিনা। কমিউনিস্ট সরকার শাসিত নেপালের প্রাথমিক শিক্ষাদানে বহুল আকারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে চিনা-মান্দারিন ভাষার পাঠ।  

म एउटा नेपाली हुँ..তার মানে আমি একজন নেপালি। মূলত নেপালি ভাষায় হিন্দি দেবনাগরী অক্ষর থাকার কারণে সেটি হিন্দিভাষী ভারতীয়দের কাছে পঠনযোগ্য। কিন্তু যেভাবে নেপালের অভ্যন্তরে চিনা ভাষা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে তাতে চিন্তিত ভারত সরকারও।  সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় উত্তর প্রদেশ ও বিহার সংলগ্ন নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক হারে বেড়েছে চিনা ভাষায় শিক্ষাদান।

কাঠমান্ডুর একাধিক সংবাদপত্র ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার খবর,  নেপাল জুড়ে অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য চিনা ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক। চিন সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের বেতন-খরচ দেওয়া হচ্ছে। মোটা মাইনের এই চাকরি।  বিভিন্ন বিদ্যালয়ে চিনা ভাষা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ইকনমিক টাইমসের রিপোর্ট বলছে,  ভারত সীমান্ত সংলগ্ন নেপালের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হল পোখরা ও ধুলিখেল। জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। সেখানেই চিনা ভাষা শেখানাোর হিড়িক বেশি।  রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, কম করেও ১০টি নামকরা বেসরকারি বিদ্যালয়ে চিনা ভাষা বাধ্যতামূলক। সেই বিদ্যালয়গুলির শিক্ষকরা এটি স্বীকার করে নিয়েছেন।

নেপাল সরকারের শিক্ষাপ্রদান উন্নয়ন কেন্দ্রের তথ্য আধিকারিক  গণেশ প্রসাদ ভট্টরাই বলেন, স্কুলগুলোকে বিদেশি ভাষায় শিক্ষা দানের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে তারা শিক্ষার্থীদের জন্য ওইসব ভাষা বাধ্যতামূলক প্রয়োগ করতে পারবে না। 

তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, কাঠমান্ডুর চিনা দূতাবাসের তরফে নিযুক্ত করা হয় চিনা ভাষার শিক্ষকদের। এর জন্য শিক্ষকদের বেতন দিতে হয়না বিদ্যালয়গুলিকে। ফলে বিনা বেতনের স্টাফ পাচ্ছে বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যালয়। এই কারণে নেপালি ও চিনা  ভাষা জানা শিক্ষকদের চাহিদা প্রচুর। 

নেপালে ক্রমে বাড়তে থাকা চিনা ভাষার চর্চায় ভারতীয় কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। অনেকের ধারণা, এরকম চলতে থাকলে চিনের উপনিবেশে পরিণত হতে নেপালের বেশিদিন লাগবে না। যেহেতু নেপাল ও চিন প্রতিবেশী আর দুই দেশেই কমিউনিস্ট সরকার। তাই চিনের দিকেই ক্রমশ ঝুঁকে পড়ছে নেপাল। 

নেপালে রাজতন্ত্র পতনের পর থেকে বারে বারে ক্ষমতায় এসেছে নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ও মাওবাদী সরকার। বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে, নয়াদিল্লি তার বন্ধু রাষ্ট্র নেপালের উপর খবরদারি চালাচ্ছে। দুই রাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী এলাকায় অসন্তোষ প্রবল হয়েছে বারে বারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নেপালের সঙ্গে দোস্তি বাড়িয়ে নেয় চিন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী তথা সিপিএন(ইউএমএল) নেতা কে পি শর্মা ওলির সরকার ধীরে ধীরে ভারত থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ায় চিন উৎফুল্ল।

এমনিতেই চিনের সঙ্গে নেপালের রেল প্রকল্প চালু হওয়ার কাজ এগিয়েছে অনেকটা। সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারত সীমান্তের খুব কাছাকাছি এসে পড়বে চিনা ড্রাগনের গরম নিঃশ্বাস।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চিনা বিনিয়োগে শক্তিশালী হওয়ার পথ খুঁজছে নেপাল। সেই কারণেই নেপালে বাড়ছে চিনা ভাষা শিক্ষার চর্চা। কাঠমান্ডু-বেজিং কূটনৈতিক সম্পর্কের এই দিকটি নয়াদিল্লির কাছে খুবই চিন্তার কারণ। সম্প্রতি নেপালের সেনা প্রধান জেনারেল পূর্ণ চন্দ্র থাপা চিন সফরে যান। দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক মহড়ার পরবর্তী ধাপগুলি সেই সফরেই নির্ধারিত হয়েছে।

নেপালের সঙ্গে সীমান্তবর্তী হল পশ্চিমবঙ্গ। স্থানীয় সূত্রে খবর, চিনা দার্জিলিং জেলা সংলগ্ন মেচি নদীর ওপারে নেপালের ধাপা জেলাতেও চিনা ভাষা শিক্ষার হার বেড়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here