দ্য পিপল ডেস্কঃ ১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ৩০৩ আসনের পর সংসদে একের পর এক সাফল্য ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে বিরোধীদের। লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই মোদি লেহেরে গা ভাসাতে শুরু করেছেন একাধিক রাজনৈতিক নেতা। নাটকীয় পালাবদলে বদলে গিয়েছে একাধিক রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্র। এবার নজরে সিকিম। মঙ্গলবার সিকিম ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের ১০ জন বিধায়কের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই বিরোধী আসনে এগিয়ে গেল পদ্ম শিবির।

আমাদের WHATSAPP গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন: Whatsapp

গত বিধানসভা নির্বাচনে সিকিমের ৩২ টি আসনের মধ্যে ১৭ টি আসন পেয়েছিল সিকিম ক্রান্তিকারি মোর্চা। অন্যদিকে সিকিম ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের দখলে ছিল ১৫ টি আসন। খাতা খুলতে পারেনি বিজেপি। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে পাল্টে গেল পাহাড়ের ছবি। এসডিএফের ১০ সদস্য এদিন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই প্রধান বিরোধী দল হিসাবে তকমা পেতে চলেছে মোদি-শাহের দল।

স্বাধীনতার পর থেকেই কয়েক দশক ধরে অবহেলার স্বীকার হয়েছে উত্তর-পুর্ব ভারত। অসম ছাড়া বাকি সমস্ত রাজ্যের লোকসভা আসনের সংখ্যা মাত্র দুটি।  দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলির তুলনায় উত্তর-পুর্ব ভারতের আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভোটারের শতকরা হার সব চাইতে বেশী। 

মোদি সরকারের প্রথম ইনিংস থেকে উত্তর-পুর্ব ভারতের ওপর বেশী নজর দিয়েছে গেরুয়া শিবির। উত্তরপুর্বের সামাজিক, অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর উন্নয়নের দিকে জোর দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত পাঁচ বছরে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য বরাদ্দ হয়েছে কোটি টাকা। সংগঠনের দিকে নজর রেখেই আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে একজোট হয়ে গঠন করা হয়েছে নর্থ ইস্ট ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স।

২০১৫ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন অসমের হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ এর ঘনিষ্ঠ ছিলেন হেমন্ত। তাঁর দলবদলের পরেই অসম থেকে ক্ষমতা হারায় কংগ্রেস। এরপরেই হেমন্তের ওপর উত্তর-পুর্বের ভার তুলে দেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। 

মঙ্গলবার সিকিমের দলবদলের পর বিধানসভায় নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন পবন কুমার চামলিং এর দল। খানিকটা নড়েচড়ে বসেছে সিকিম ক্রান্তিকারি মোর্চা। এখন দেখার মোদি ঝড়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারেন কয়জন?