।। গৌতম ভট্টাচার্য ।।

শিল্প নেই। কৃষিকাজেও অনীহা নয়া প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের। অথচ শিক্ষিত এই বেকারদের কাজ দিতে না পারলে সমূহ বিপদ। সেই কারণেই সবার হাতে কাজ চাইছে রাজ্য সরকার। ছেলেমেয়েরা যাতে ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, তার ব্যবস্থাও করবে সরকার। স্কুলছুটদের পড়ানোর পাশাপাশি তাদের কাজের ব্যবস্থাও করবে সরকার।

আপাতত শিক্ষিত বেকাররাই মাথাব্যথা রাজ্য সরকারের । ২০২১এ বিধানসভা নির্বাচন । এই শিক্ষিত সমাজটাই যদি বেঁকে বসে তাহলে ক্ষমতায় ফেরা যে কার্যত অসম্ভব, তা জানেন খোদ তৃণমূল নেত্রীও । সেই কারণেই সবার হাতে কাজ চাইছে নবান্ন ।

এজন্য রাজ্য সরকার চালু করেছে উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্প। সরকার অনুদান প্রাপ্ত কিছু স্কুলে এই প্রকল্প চালু হয়ে গিয়েছে।ছাত্রছাত্রীরা যাতে এই প্রকল্পে আসতে আগ্রহী হয়, সেজন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে স্টাইপেন্ডেরও।

সরকারি কিছু স্কুলে ভোকেশনাল কোর্স চালু হয়েছিল অনেক আগেই। তবে মূল ধারার লেখাপড়া ছেড়ে সিংহভাগ ছেলেমেয়েই পড়তে চাইছে না ভোকেশনাল কোর্স।তাই না ঘুচেছে ভোকেশনাল কোর্সের শিক্ষকদের দুর্দশা, না হাল ফিরেছে পড়ুয়াদের।

সেই কারণেই উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্পের ওপর জোর দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পে যারা পড়াশোনা করছে তারা তো বটেই, যারা স্কুলছুট তাদেরও কাজ শেখানো হবে হাতে কলমে । কাজের পাশাপাশি দেওয়া হবে শংসাপত্রও । স্কুলছুটদের মুক্ত বিদ্যালয়ের মাধ্যমে দান করা হবে শিক্ষাও ।

মিড-ডে মিল দেওয়ায় স্কুলছুটের হার কমেছে । তবে একেবারে বন্ধ হয়ে যায় নি । সংসার চালাতেই স্কুল না গিয়ে দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা লেগে যায় কাজে । পেটে বিদ্যে না থাকলেও হাতের কাজে এরা বেশ দড়। এদের এই দক্ষতাটাকেই কাজে লাগাতে চাইছে সরকার ।  

উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্পে বিউটিশিয়ান, কাঠের কাজ, মোটর মেকানিকের মতো নামী কোর্সের পাশাপাশি শেখানো হবে স্পোকেন ইংলিশের মতো দামী কোর্সও।নবান্নের কর্তাদের ধারণা, এতে আর কিছু না হোক, স্কুল-কলেজের পাঠ শেষে এই ছেলেমেয়েরা নিজেরা অন্তত কিছু করতে পারবে।

যে এলাকার ছেলেমেয়েরা যে কাজে দক্ষ, তাদের সেই ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে। মেদিনীপুর সদর ব্লক, কেশিয়াড়ি এবং দাসপুর-২ ব্লকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে অচিরেই। এই এলাকাগুলিতে কাঁচা পয়সার টানে স্কুলছুটের হার খুব বেশি । এই ছেলেমেয়েদেরই ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি মুক্ত বিদ্যালয়ের মাধ্যমে দেওয়া হবে শিক্ষা । এতে একদিকে যেমন ওই ছেলেটি কিংবা মেয়েটি শিক্ষিত হয়ে উঠবে, তেমনি যে কাজে সে দক্ষ ছিল, ট্রেনিং পেয়ে সে আরও বেশি দক্ষ হয়ে উঠবে। ট্রেনিং শেষে মিলেব শংসাপত্রও। তাই চাইলেই সে কোনও নামী সংস্থায় কাজ খুঁজে নিতে পারবে এই দক্ষ তরুণ-তরুণীরা।

ট্রেনিং নিলে মিলবে ঋণও। ফলে কেউ চাকরি করতে না চাইলেও অসুবিধে নেই। সরকারি ঋণ নিয়ে সে দিব্যি ব্যবসা করতে পারবে। তাই শিল্প না হলেও রোজগারে ভাঁটা পড়বে না বেকারদের।

এখন দেখার, প্রকল্পে সাড়া মেলে কেমন !