দ্য পিপল ডেস্কঃ বেশ কয়েকদিন ধরে পাহাড়ে অবিরাম বৃষ্টির ফলে সেবক সহ পাহাড়ের বেশ কিছু জায়গায় ধ্বস নামে। এর ফলে সিকিম সহ কালিম্পং ও ডুয়ার্সের সড়ক যোগাযোগ একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার সকালে সেবক ফাঁড়ির কিছুটা দুরে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে কালিঝোড়ার কাছে সবচেয়ে বড় ধ্বস পড়ে। এই ধ্বসের ফলে একটা বড় গাছ রাস্তার ওপর উপরে পড়ে। এছাড়া পাহাড়ের গায়ের একটা আস্ত বাঁশ ঝাড় ও বেশ কয়েকটি গাছও উপরে যায়। সে সময় এই পথে কোনো গাড়ি চলাচল না করার ফলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটে নি। তবে রাস্তার ওপর বিরাট বড় গাছ ও ধ্বসের মাটি পড়ে থাকায় সেবক, কালিম্পং সহ ডুয়ার্সের যাওয়া আসার গাড়ি আটকে পড়ে।

এছাড়াও সেবক কালিবাড়ির সামনেও ধ্বস পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়৷ মন্দিরে ওঠার সময় একটি অস্থায়ী টিনের তৈরী দোকানে দর্শনার্থীরা জুতো রাখে। সেই দোকানটি ধ্বসে গুড়িয়ে যায়। করোনেশান ব্রীজের কাছে সহ আরও বিভিন্ন জায়গায় ধ্বস নামে।

সেবক ফাঁড়ির পুলিশ পৌঁছে যানজট নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে। বেশ কয়েকঘন্টার চেষ্টায় গাছটির গোড়ার দিকের অংশ একপাশে সরিয়ে রেখে কিছুটা ধ্বস সরিয়ে একপাশ দিয়ে গাড়ি যাতায়াতের রাস্তা করা হয়। এদিকে গাড়ির লম্বা লাইন দেখে বহু গাড়ি বাইপাশ ধরে গাজলডোবা, ওদলাবাড়ি হয়ে ডুয়ার্সে যাতায়াত করে।

অন্যদিকে ডুয়ার্সের গাড়িগুলিও শিলিগুড়ি আসার জন্য ওদলাবাড়ি, গজলডোবা হয়ে বাইপাশ ধরে শিলিগুড়ি পৌছায়। সেই সঙ্গে প্রবল বর্ষনের ফলে একটি রেলসেতুর পিলার নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় নিউজলপাইগুড়ি থেকে আলিপুরদূয়ার যাওয়ার রেল পরিষেবাও এদিন বন্ধ থাকে। এদিকে ভরা বর্ষায় পাহাড়ের ভয়াবহ এই রূপের ভয়ে অনেক পর্যটক গন্তব্যস্থল পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।

হিমালয়ান হসপিটালিটি এ্যান্ড টুরিজম ডিপার্টমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারন সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, “সাধারণত আমরা ভরা বর্ষায় ধ্বসের কারনে পর্যটকদের পাহাড়ে আসতে বারন করি। তবু অতি উৎসাহি কিছু পর্যটন পাহাড়ে বর্ষার এই ভয়াবহ রূপ প্রত্যক্ষ করতে চায়৷ তাদের পাহাড়ে যাওয়া আসার পথে গাড়ির গতি বেধে দেওয়া হয়।”

তিনি আরও জানান, “কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষনে সেবকের বেশ কিছু জায়গায় ধ্বস নামার কারনে সিকিমে যাওয়ার পর্যটকদের দার্জিলিং পাঠানো হয়েছে। তার মতে দার্জিলিং যাওয়ার অনেক পথ আছে। কিন্তু সিকিম ও কালিম্পং যেতে হলে মূলত সেবক হয়েই যেতে হয়। কিন্তু ভরা বর্ষায় সেবকে পাহাড় ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অর্থাৎ বৃষ্টির প্রকোপ কমলে পর্যটকদের সিকিম পাঠানো যাবে। না হলে কার্শিয়াং কিংবা ডুয়ার্স তো আছেই।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here