দ্য পিপল ডেস্কঃ নেপাল শব্দটি মনে এলেই কাঠমান্ডুর কথা প্রথমে আসে। কিন্তু পোখরার নাম শুনেছেন? নেপালের অন্যতম শহর পোখরা। কাঠমান্ডু উপত্যকার পশ্চিমে এবং নেপালের কেন্দ্রে অবস্থিত সাত সমুদ্রের শহর নামে পরিচিত পোখরা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্‍্যের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেও সমৃদ্ধ। নেপালের মধ্যেই এক টুকরো স্বর্গ পোখরা। যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে আপনার।

আমাদের WHATSAPP গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন: Whatsapp

পোখরার দর্শনীয় স্থান

পোখরা শহরে দেখার মতো অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এখানকার সুন্দর স্বচ্ছ লেকের দৃশ্য যেমন আপনার চোখ টানবে তেমনই দিগন্ত জোড়া পাহাড়ের দৃশ্য মনকে উদার করে তুলবে। নৌকায় ঘুরে দেখুন গোটা শহর।

ফেওয়া লেকঃ নেপালের দ্বিতীয় বৃহত্তম লেক ফেওয়া। যা দেখতে প্রতি বছর প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। বিভিন্ন ধরনের জল খেলায় মেতে ওঠার পাশাপাশি ওয়াটার রাইডের মজা পাবেন এখানে। ক্যানোইং, নৌকা চালানো, সাঁতার কাটা এবং কায়াকিং করুন পরিবারের সঙ্গে। এছারা দেখতে পাবেন বিভিন্ন পাখির স্মারোহ। লেকের মাঝে রয়েছে “বারাহি” মন্দির। প্রতি শনিবার বারাহাকে উৎসর্গ করে ভক্তরা পশু-পাখি বলি দেন।

ডেভিস ফলঃ পোখারা বিমানবন্দর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে চোখ জুড়ানো ডেভিস ফল। ফেওয়া লেক থেকেই এই ঝর্ণার উৎস। কথিত রয়েছে, এই ঝর্নাতে মারা যান “ডাভি” নামের এক মহিলা। তারপর থেকেই এর নাম দেওয়া হয় ডেভিস ফল।

গুপ্তেশ্বর মহাদেব গুহাঃ ডেভিস ফলের পাশেই এই গুহার অবস্থান। বাঁকানো একটি সিড়ি দিয়ে এই গুহার ভিতর প্রবেশ করতে হয়। প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা এই গুহাকে “শিব লিঙ্গমের” পূরানো ঘর বলে মনে করা হয়। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে দেখুন এই গুহা।

জাংছুব ছোলিং গুম্ফাঃ তিব্বতীয়ান শরনার্থীদের আবাসস্থল জাংছুব ছোলিং গুম্ফা। তিব্বতিয়ান ধাঁচে বানানো এই মনেস্ট্রি আপনার নজর কাড়বে সহজেই। অতি সুন্দর মনেস্ট্রির ভিতরের হল দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে আপনার। তবে সবচেয়ে আকর্ষনীয় এখানকার ৭ ফুট লম্বা কপার ও সোনা দিয়ে মোড়া বুদ্ধ মুর্তি।

শরনকোটঃ নেপালের জনপ্রিয় স্থাঙ্গুলির মধ্যে অন্যতম শরনকোট। এখান থেকে পোখরা ভ্যালি, অন্নপুর্না পুর্বত ও ফেওয়া লেকের মনোরম দৃশ্য চোখে পড়বে। যদি খুব ভোরে ঊথে যান এবং পরিবারের সঙ্গে ছবি তুলুন।

ইন্টারন্যাশনাল মাউন্টেন মিউজিয়ামঃ পোখরার জনপ্রিয় পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম ইন্টারন্যাশনাল মাউন্টেন মিউজিয়াম। এখানকার নান্দনিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে নির্মল আনন্দ দেবে। মিউজিয়ামে নেপালের ইতিহাস এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চোখে পড়ার মতো।

গুরখা মেমোরিয়াল মিউজিয়ামঃ এখানকার মিউজিয়াম গুলির মধ্যে অন্যতম গুরখা মেমোরিয়াল মিউজিয়াম। এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে শান্তি রক্ষা মিশনে সাহসী গুরখাদের বিভিন্ন ভুমিকা ও অর্জনের দিক তুলে ধরা হয়েছে।

মাহেন্দ্র গুহাঃ প্লাইস্টোসিন যুগের এই গুহায় বাস করতেন রাজা মাহেন্দ্র। তারপর থেকেই এই গুহার নাম দেওয়া হয়েছে মাহেন্দ্র গুহা। ঘুরে এখুন এই গুহা। চোখে পড়বে ইতিহাসের অনেক ছবি।

কিভাবে যাবেন?

কলকাতা থেকে আকাশপথে কাঠমান্ডু। সেখান থেকে পোখরা যাওয়ার জন্য গাড়ি, বাস অথবা বিমান পরিষেবা রয়েছে। কাঠমান্ডুর থামেল থেকে বাস পাবেন। কাঠমান্ডু থেকে অভ্যন্তরীণ বিমানে মাত্র আধ ঘন্টায় পৌঁছে যাবেন।