দ্য পিপল ডেস্কঃ নেতাজী ইন্ডোরের স্টেডিয়ামে বিজেপির কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। এই সন্ধিক্ষণে বিজেপিতে যোগ দিলেন নিউটাউন-রাজারহাটের বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত।

দলের নতুন সদস্যকে পেয়ে জড়িয়ে ধরলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। এই মুহুর্তে রাজ্য রাজনীতিতে হটকেক এই ছবি।

মাস কয়েক আগেই দলবিরোধী কাজের জন্য সব্যসাচীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিধাননগরের ৩৫ জন কাউন্সিলর। কিন্তু তাতেও সব্যসাচীর মত দুঁদে রাজনীতিবিদের কিছু আসে যায় না। কারণ নিউটাউন-রাজারহাট সহ জেলাতেও তাঁর জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মত।

যে সমস্ত বিধায়করা তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে সব্যসাচী কোনও অংশেই কম নয়। এদিন ইন্ডোরের মঞ্চে সেই কথা শোনা গেল মুকুল রায়ের গলাতেও।

দক্ষ সংগঠক হওয়ায় সর্বদাই গেরুয়া শিবিরের নজরে ছিলেন তিনি। দলবদলের মরশুমে তাঁকে একাধিকবার গেরুয়া শিবিরে ভেড়াতে চেয়েছেন মুকুল রায়। যদিও তখনই দলবদলের কোনও সিদ্ধান্ত নেননি সব্যসাচী। এদিন ইন্ডোরের মঞ্চ থেকেই নজর কাড়লেন বিজেপির নব্য সদস্য।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে বিদেশে গেলে নেহেরু গান্ধীদের কথা উল্লেখ করে বলতে হত। যারা শুধুমাত্র রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোড়ালো করেছে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি রাশিয়া, চিন আমেরিকাকে একত্রিত করেছেন।

সম্প্রতি আমেরিকা সফরে সারা বিশ্বের আলোচনার শিরোনামে চলে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘হাউডি মোদি’ থেকে শুরু করে জাতি সংঘের সাধারণ সভায় চর্চার বিষয় ছিল জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার।

এদিন জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গে অমিত শাহকে সম্বোধন করে গেরুয়া শিবিরের নতুন সদস্য বলেন, জম্মু-কাশ্মীর ঠান্ডা হলেও বাংলা ঠান্ডা নয়। তাই বাংলাকেও ঠান্ডা করার আবেদন জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে উঠে আসে বিস্ফোরক তথ্য। যেখানে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সম্বোধন করে বলেন বাংলা ধীরে ধীরে পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে।

লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই তৃণমূলের চক্ষুশূল ছিলেন সব্যসাচী। মুকুল রায়ের সঙ্গে লুচি-আলুরদমের বৈঠক রাজ্য রাজনীতির শিরোনামে পৌঁছে যায়। যদিও মুকুল রায়ের সঙ্গে এহেন সম্পর্ককে বাঙালির আতিথেয়তা বলে কটাক্ষ করেছিলেন একদা তৃণমূলের নেতা।

সেই একই কথা মঙ্গলবার বিজেপিতে যোগদানের পর শোনা গেল সব্যসাচীর মুখে। কিন্তু এসব দেখেও চুপ ছিল তৃণমূল। তার ওপর মুকুল রায়ের মন্তব্য ঘাসফুল শিবিরের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে যে দিয়েছে, তা স্পষ্ট।

যদিও তাঁর পরেও শেষমেশ মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যায়। বিদ্যুৎভবনে কর্মীদের ধর্নামঞ্চে দেখা যায় তাঁকে। সেখানেও দলবিরোধী জ্বালাময়ী ভাষা অস্বস্তিতে ফেলে তৃণমূলকে।

কিন্তু এই সংগঠক সব্যসাচীকে উত্তর চব্বিশ পরগণার ট্রাম্পকার্ড হিসাবে ব্যবহার করতে চায় বিজেপি। কারণ এই এলাকায় বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনার জন্য সব্যসাচীর একটি বিরাট ভুমিকা রয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমোর জানা। সেকারণেই দলনেত্রীর কাছের একজন ছিলেন তিনি।

পরে তিক্ততার কারণে এ সম্পর্কের অবসান ঘটে। প্রশাসনিক বৈঠকে সব্যসাচীর জলা ভরাটের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে সব্যসাচী দত্তের মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর তরফে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তৃণমূলের মাথায় কালো মেঘের সময়েই বিজেপি নেতাদের ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়াতে শুরু করেন রাজারহাটের বিধায়ক। গণেশ পুজোতে দিলীপ ঘোষ, মুকুল এবং অরবিন্দ মেননের উপস্থিতি জানান দিয়েছিল তাঁর বিজেপিতে যোগ শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।

কিছুদিন আগেই শহরে এসছিলেন বিজেপির কার্যকরী সভাপতি জেপি নাড্ডা। সেদিন থেকেই ২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রণনীতি সাজাতে শুরু করেছে রাজ্য বিজেপি। তার ওপর অমিত শাহের উপস্থিতি চাঙা করেছে পদ্ম শিবিরকে।

দেবী পক্ষের শুরুতেই নতুন দলে রাজারাহাট নিউটাউনের বিধায়কের ‘সব্যসাচী’ টোটকা কাজে লাগে কিনা সেটাই দেখার।

সেইসঙ্গে অষ্টমীতে সব্যসাচীর লুচি-আলুরদম রাজারহাট-নিউটাউনে কতটা বাজার গরম করতে পারে তা দেখার জন্য উৎসুক রাজনৈতিক মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here