||গৌতম ভট্টাচার্য||

অতি অল্প দিনেই জুটেছে ব্লক কার্যকরী সভাপতির পদ। স্ত্রীকে প্রধান পদে বসিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কম বয়সেই আদায় করে নিয়েছেন বিরোধী দলের নেতাদের সমীহ-ও। সেই কারণেই কি খুন হতে হল পাঁশকুড়ার তৃণমূল নেতা কুরবান শা-কে? অন্তত কুরবান খুনের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ দেখে এমনটাই অনুমাণ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

পুলিশ সূত্রে খবর, নবমীর রাতে মাইশোরায় দলীয় কার্যালয়ে বসে কাজ করছিলেন তৃণমূলের পাঁশকুড়া ব্লক কার্যকরী সভাপতি কুরবান। অফিসে তখন ছিলেন আরও চারজন। ছুটিতে ছিলেন ব্যক্তিগত দেহরক্ষী। রাত দশটা নাগাদ আচমকাই হুড়মুড়িয়ে পার্টি অফিসে ঢোকে কয়েকজন দুষ্কৃতী। বন্দুক উঁচিয়ে বাকিদের আটকে রাখে কয়েকজন। আর কুরবানের মাথা লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে দুই দুষ্কৃতী। কুরবানের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে এলাকা ছাড়ে তারা।

কুরবানের মৃত্যুর পরেই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে সরগরম হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি।তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই খুন করেছে কুরবানকে। যদিও বিজেপির দাবি, গোষ্ঠীকোন্দলের জেরেই খুন হয়েছেন কুরবান।

তবে যতই দিন যাচ্ছে ততই জোরালো হচ্ছে গোষ্ঠীকোন্দলের জেরে কুরবান খুনের তত্ত্ব। তৃণমূলের একটি সূত্রের খবর, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০০৭ সালে তৃণমূলে যোগ দেন কুরবান। এর পর নিজ গুণেই দলে দ্রুত উত্থান হতে থাকে তাঁর।

২০১৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জিতে মাইশোর পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান হন বছর ছাব্বিশের কুরবান। যুব নেতা থেকে তাঁকে ব্লক কার্যকরী সভাপতি করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁর নেতৃত্বে লড়ে  এলাকার প্রতিটি নির্বাচনেই জয়ী হয় তৃণমূল।

স্বাভাবিকভাবেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সুনজরে পড়ে যান এই তরুণ তুর্কী। অধিকারী পরিবারের খুব কাছের লোক ছিলেন তিনি। সেই কারণেও দলে দ্রুত উত্থান হতে থাকে বলে সূত্রের দাবি।

২০১৮ সালে পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতিও হন। তাঁর স্ত্রী সাইদা সাবানা বানুকে মাইশোরা পঞ্চায়েতের প্রধানের পদ দেওয়া হয়।

যে কোনও প্রয়োজনে কুরবানকে পাশে পেতেন স্থানীয়রা। বিরোধী দলের অনেক নেতাই তাঁর কাছে নানাভাবে উপকৃত হয়েছেন। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বামেদের পার্টি অফিস খুলিয়েছেন কুরবান। পার্টি অফিসের নষ্ট জিনিসপত্রও তিনি কিনে দিয়েছিলেন নিজের টাকায়।

এই বিরল গুণের কারণে নিজের দলের একটা বড় অংশ মায় বিরোধীদেরও সমীহ আদায় করে নিয়েছিলেন কুরবান। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটাই তাঁর অকাল মৃত্যুর কারণ।

তৃণমূল সূত্রের খবর, দলে কুরবানের দ্রুত উত্থান মেনে নিতে পারেনি দলীয় নেতৃত্বেরই একাংশ। তাছাড়া, তিনি যেভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, তাও ঈর্ষার কারণ হয়ে উঠেছিল অনেকের কাছে। সেই কারণেই গুলি করে খুন করা হয় কুরবানকে।

কুরবান খুন হন নবমীর রাতে। অথচ দ্বাদশীর দিন দুপুর পর্যন্তও কেউ গ্রেফতার হয়নি। তিনজনকে আটক করা হয়েছে মাত্র।

তাছাড়া, কুরবান খুনের পর অনেক দেরিতে পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হলে দুষ্কৃতীরা জেলা তো দূর, পাঁশকুড়া ছেড়েই বেরতে পারত না। দলের তরফে কেন দ্রুত পুলিশে খবর দেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নও উঠছে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ঠিকমতো তদন্ত হলে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরবে। তাই তদন্ত চলছে ঢিমেতালে।

কুরবান খুনের রহস্য তাহলে ফাইলবন্দিই থেকে যাবে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here