মফঃস্বলে মধুচক্র 01

||গৌতম ভট্টাচার্য||

স্পা কিংবা বিউটি পার্লারের আড়ালে রমরমিয়ে চলছে মধুচক্রের আসর। কেবল শহর কলকাতা নয়, মফঃস্বলেও এই ব্যবসা চলছে রমরম করে। হাওড়া, হুগলি, মেদিনীপুর, বারাসত, ক্যানিং, শিলিগুড়ি সর্বত্রই মধুচক্রের আসর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ-প্রশাসনকে মাসোহারা দিয়েই চলে ব্যবসা। স্থানীয়দের অভিযোগ পেলে তবেই পুলিশ রেইড করে। কখনও কেউ গ্রেফতার হয়, অধিকাংশ সময়ই কাউকে ধরা যায় না।

পুলিশি অভিযানের আগাম খবর পেয়ে মৌমাছি এবং মৌ-লোভীরা ধাঁ।

মফঃস্বলে মধুচক্র,কারা আসে এই পেশায়?

গত এক মাসে মধুচক্র থেকে যাঁরা ধরা পড়েছেন, তাঁদের সিংহভাগই কম বয়সী ছেলেমেয়ে। এঁরা বিক্রেতা, পরিষেবা দেন।

আর ধরা পড়েছেন মাঝ বয়সী ক্রেতারা, মোটা টাকার বিনিময়ে যাঁরা শরীর কেনেন।

এই বিক্রেতাদের অধিকাংশই চাকরি না পাওয়া উচ্চ শিক্ষিত তরুণী কিংবা যুবতী।

তরুণ এবং যুবকেরাও যাঁরা আসেন, তাঁরাও শিক্ষিত। তদন্তকারীরা জেনেছেন, কাঁচা পয়সায় লোভেই এঁরা এই পেশায় আসেন।

কীভাবে মফঃস্বলে মধুচক্র -এর ব্যবসা চলে?

খদ্দেররা প্রথমে স্পা কিংবা বিউটি পার্লারে যান। সেখানে আপনি কী ধরনের পরিষেবা চান, তা জানিয়ে দিতে হয়।

তার পরেই শুরু হয় দাম-দস্তুর। পছন্দের নারী কিংবা পুরুষ শরীর পেতে গেলে চোকাতে হয় চড়া মূল্য।

দাম-দস্তুর হয়ে গেলে এবং শরীর পছন্দ হয়ে গেলে শুরু হবে ম্যাসেজ।

প্রথমে শরীরের ঊর্ধ্বাঙ্গ, পরে নিম্নাঙ্গ।আপনি উত্তেজিত হলেই শুরু হবে শেষ পর্বের পরিষেবা দেওয়ার কাজ।পাঁচ হাজার টাকায় রফা হলে, যিনি শরীর বেচবেন তিনি পাবেন হাজার খানেক টাকা, বাকিটা স্পা কিংবা পার্লার মালিকের।

দিনে দুটো খদ্দের পেলেই মাস গেলে হাজার পঞ্চাশেক টাকা বাঁধা। সাধারণ কোনও চাকরি করলে যা পাওয়া যেত না। (লোক ঠকানোর কারবারও চলে কোথাও কোথাও, তবে সেগুলো সম্পর্কে এখানে আলোচনা করা হচ্ছে না)

শুধুই শরীরি সম্পর্ক, নাকি অন্য কিছুও মেলে?

শরীরি সম্পর্কের বাইরেও মেলে অনেক কিছুই। এই নারী কিংবা পুরুষদের বাইরে নিয়ে যেতে চাইলে যেতেই পারেন।

তবে সেক্ষেত্রে দিতে হবে দিন প্রতি তিন-চার গুণ বেশি টাকা।

যাঁকে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর খাওয়া-দাওয়া, হোটেল খরচ সবই দিতে হবে যিনি নিয়ে গিয়েছেন তাঁকে।

স্পা কিংবা পার্লারে একবার শরীরি সম্পর্ক করতে পারলেও, যখন নিয়ে যাবেন, তখন দিনে যতবার খুশি তাঁর সঙ্গে মেতে যেতে পারেন শরীরি খেলায়।

এক মহিলার কথায়, আমাদের খাটনির মোটা টাকা চলে যায় স্পা কিংবা বিউটি পার্লারের মালিকের পকেটে।

তাতে ক্ষতি হলেও, লাভও আছে। পুলিশ কিংবা স্থানীয়দের মস্তানি সামলায় তারাই। আমরা কেবল নিশ্চিন্তে পরিষেবা দিতে পারি।তিনি বলেন, আমি বিশ্বের কয়েকটি দেশে ঘুরেছি পার্টনারের সঙ্গে। বাড়িতে বলেছি অফিসের কাজে বাইরে যাচ্ছি।

এই অফিসের কাজে বাইরে যাচ্ছি বলেই বাড়ি থেকে বের হন এই পেশার নারী কিংবা পুরুষ।

তার পর ক্রেতার সঙ্গে চলে যাওয়া ভিন রাজ্য কিংবা ভিন দেশে। পাঁচ-সাতদিন পরে ফিরে আসা।

তার পর ফের স্পা কিংবা বিউটি পার্লারের ছোট্ট চৌখুপির মধ্যেই চলে পরিষেবা দেওয়া। এই ছোট্ট চৌখুপিই এঁদের অফিস।

পুলিশের দাবি

মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছ পুলিশ।

তাদের দাবি, স্পা কিংবা পার্লারে রেইড হয় নিয়মিত। ধরাও পড়ে। তবে বেশ কয়েকটি চক্র যে খুবই সক্রিয়, আড়ালে তা মানছেন পুলিশেরই একাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here