দ্য পিপল ডেস্কঃ জিয়াগঞ্জে খুনের ঘটনার ৭২ ঘন্টা পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলেন পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের ৪ জনের একটি প্রতিনিধি দল।

শুক্রবার রাতে এডিজি সাউথ বেঙ্গল সঞ্জয় সিং ও ডিআইজি মুর্শিদাবাদ রেঞ্জ বাস্তব বৈদ্য এবং মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার শ্রী মুকেশ জিয়াগঞ্জ নিহত বন্ধু প্রকাশ পাল বাড়িতে যান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, পাশাপাশি সিআইডি একটি দল এই তদন্ত সহযোগিতা করছেন বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার শ্রী মুকেশ।

শুক্রবার রাতে তারা ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান এবং কিভাবে খুন হয়েছিল কোথাও দেহ পরেছিল সমস্ত কিছু ক্ষতিয়ে দেখা হয় । পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী সাথে কথা বলেন এডিজি সাউথ বেঙ্গল সঞ্জয় সিং ।

প্রত্যক্ষদর্শী দেবব্রত সরকার জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় পরেছিল ওরা ৩ জন। আমরা যে ঘটনা দেখেছিলাম সেটা পুলিশকে জানালাম। তবে খুনের সময় ঘরের মধ্যে কেউ ছিল বলে অনুমান। খুনের পরেই ঘর থেকে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যাক্তি পালিয়ে যায় সেটাও পুলিশকে জানান তারা।

অন্যদিকে অপর প্রত্যক্ষদর্শী রাজীব দাস জানান, দশমী সকালে দেখা যায় দরজা বন্ধ। জানলা খুলে দেখা যায় ঘরের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন বন্ধু প্রকাশ পাল সহ তার সন্তানের দেহ। 

মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার শ্রী মুকেশ জানান, এই খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনকে জিজ্ঞেসবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অপর দুজনকে জিজ্ঞেসবাদ করা হচ্ছে, খুনের পিছনে সুপারি কিলার এবং পারিবারিক কেউ হাত থাকতে পারে বলে অনুমান পুলিশের।

পুলিশ এই ঘটনায় বীরভূম জেলার সিউড়ি আনন্দপল্লী ও রামপুরহাট রওনা দিয়েছেন সন্দেহ জনক একজনের সন্ধানে।

তবে এই খুনের পিছনে সুপারি কিলার নাকি  পারিবারিক জমি নিয়ে কোন বিবাদ অথবা দাম্পত্য কলহ রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগসূত্র নেই বলে ফের জানান পুলিশ। যদিও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি ।

এদিকে বন্ধু প্রকাশ পাল সহ অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বিউটি মন্ডল পাল ও একমাত্র সন্তান বন্ধু অঙ্গন পাল মৃত্যুর প্রতিবাদে মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোমবাতি নিয়ে মৌন মিছিল করা হয়।

সাধারন মানুষের এখনও দাবি অবিলম্বে তদন্ত শেষ করে দোষীদের গ্রেফতার করে শাস্তি দাবি জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা । ঘটনার পর এখনও এলাকায় পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here