||গৌতম ভট্টাচার্য||

গ্রেফতারি এড়াতে গা-ঢাকা দিয়েছেন খোদ পুলিশ কর্তা! রাজীব কুমার আপাতত সিবিআইয়ের নাগালের বাইরে। তিনি ছুটিতে গিয়েছেন বলে নবান্নের কর্তারা সিবিআইকে জানিয়েছেন। তবে কোথায় গিয়েছেন, তা নাকি জানানো হয়নি সিবিআইকে। এখানেই উঠছে প্রশ্ন, পুরোটাই জনগণের আইওয়াশ নয় তো?

রাষ্ট্রীয় নানা প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াটা যে কোনও নাগরিকের কাছেই কাম্য। পৃথিবীর সব দেশেই এই নিয়ম।অথচ এ দেশে কী দেখলাম? যাঁরা সংবিধান ছুঁয়ে শপথ নিয়ে দেশ সেবায় ব্রতী হয়েছিলেন, তাঁরাও এই পবিত্র সনদটিকে অশ্রদ্ধার পাত্র করে তুললেন জনগণের কাছে!

এক সময় দেশের অর্থমন্ত্রী ছিলেন পি চিদম্বরম। ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। সেই চিদম্বরমকেই একটি মামলায় খুঁজছিল সিবিআই। সিবিআই এড়াতে কিনা করেছেন তিনি! গা ঢাকা দিয়েছিলেন প্রায় সাতাশ ঘণ্টা। শেষমেশ রাতের অন্ধকারে পাঁচিল টপকে অনেকটা চোর ধরার কায়দায় চিদম্বরমকে গ্রেফতার করে সিবিআই। প্রশাসনের অংশ হিসেবে যে চিদম্বরম দেশবাসীকে নিয়মনীতির পাঠ শেখাতেন, তিনি কিনা সিবিআইকে এড়াতে গা ঢাকা দিয়ে রইলেন সাতাশ ঘণ্টা! এ তো গেল প্রাক্তন মন্ত্রীমশাইয়ের কীর্তি!

এবার আসা যাক পুলিশ কর্তা রাজীব কুমারের আলোচনায়। সারদা ও রোজভ্যালি কাণ্ডে তাঁকেও জেরা করতে চায় সিবিআই। তিনিও সিবিআইয়ের সঙ্গে চোর-পুলিশ খেলায় মেতেছেন। তাঁকে একবার ধরতে গিয়ে লেজে-গোবরে হতে হয়েছিল সিবিআইকে। রাজীবকে বাঁচাতে পথে নেমে পড়েন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।এবার তো সিবিআই তাঁর নাগালই পায়নি! এই প্রসঙ্গেই উঠছে প্রশ্ন। সত্যিই কি সিবিআই দোষীদের ধরতে উদ্যোগী নাকি আইনি মারপ্যাঁচের জালে ফেলে বিরোধীদের স্বদলে ভিড়তে বাধ্য করার হীন প্রয়াস শাসকদলের?

আইনি প্যাঁচে ফেলে বিরোধীদের নিজেদের দলে টেনে নেওয়ার উদাহরণ এদেশে রয়েছে ভূরি ভূরি।কংগ্রেসের চিদম্বরম এবং পরে তৃণমূলের রাজীবকে হেনস্থার চেষ্টা কি তারই অঙ্গ? এর পরেও একটা প্রশ্ন রয়ে যায়। তা হল, চিদম্বরমই হোন বা রাজীব তাঁরাই বা কেন সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন দিনের পর দিন?

তাঁরা যদি দোষী নাই হবেন, তবে আইনকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছেন কেন? কেনই বা চোরের মতো লুকিয়ে থাকতে হচ্ছে? আইনের হাত থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষ যদি এভাবে গা ঢাকা দিয়ে থাকতেন দিনের পর দিন, তাহলে ভালো হত? সেক্ষেত্রে সিবিআইয়ের দক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠত। তাছাড়া আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়ানোটা কি প্রশাসনের কোনও কর্তাব্যক্তির কাছে কাম্য? কি বলছেন কেন্দ্র এবং রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তারা?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here