দ্য পিপলডেস্ক- বিল পাশের পর কেটে গিয়েছে এক মাসেরও বেশি সময় । তবে ৩৭০ ধারা বাতিলের আঁচ যে এতো দ্রুত মিটবে না তা ভালোভাবেই জানত নয়াদিল্লি ।

জন্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে বিশেব শক্তিধর রাষ্ট্রের সহযোগিতা পেতে মরিয়া মোদি সরকার । সেই লক্ষ্যে একের পর এক রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও সেরে ফেলছেন ।

রাশিয়ার পর এবার আমেরিকা । চলতি মাসের শেষে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকের জন্য বদ্ধপরিকার ভারত ।

মোদি ট্রাম্প বৈঠক 01

মোদি ট্রাম্প বৈঠক

২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৭দিন ব্যাপী মার্কিন সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী ।

হিউস্টনে ভারতীয় বংশোদ্ভুতদের সঙ্গে বৈঠকের শেষে রওনা দেবেন নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের অধিবেশনের উদ্দেশ্যে  ।

এরই মাঝে ২৫ অথবা ২৬ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে মোদী-ট্রাম্প বৈঠকের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে মার্কিন প্রশাসনের কাছে ।

কূটনৈতিক মহলের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক এবং কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পকে বিশদে জানানোর বিষয়টি বৈঠকের মূল লক্ষ্য ।

পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং ইরান থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে চাইছে নয়াদিল্লি ।

মোদি ট্রাম্প বৈঠক 02

মোদি ট্রাম্প বৈঠক প্রসঙ্গে কি বললেন ট্রাম্প

মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে দু’সপ্তাহ আগের পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্থিতিশীল ।

এর আগে কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাক আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে চেয়ে বার দুয়েক ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি ।

কিন্তু ভারত সাফ বক্তব্য ছিল, কাশ্মীর ইস্যুতে কোনও তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতা চায় না তারা ।

ট্রাম্পের কথায়, ‘‘ভারত এবং পাকিস্তান যদি চায়, তা হলে তাদের সহায়তা করতে রাজি আমি। দু’দেশই সেটা জানে ।’’

তবে ট্রাম্পের এ দিনের বক্তব্যকে খুব একটা আমল দিতে নারাজ নয়াদিল্লি ।

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার অধিবেশন হয়ে যাওয়ার পরেও আমেরিকায় থেকে যাবেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর । বৈঠক করবেন মার্কিন বিদেশসচিব মাইক পম্পেয়োর সঙ্গে ।

তবে বিদেশমন্ত্রকের মতে, তার আগেই ভারত-মার্কিন কৌশলগত এবং বাণিজ্যিক দিকগুলি খতিয়ে কথা বলার প্রয়োজন রয়েছে ।

মোদি ট্রাম্প বৈঠক 03

বেহাল অর্থনীতিতে মার্কিন লগ্নির আশ্বাস

দেশের অর্থনীতি বেহাল । তলানিতে ঠেকেছে রফতানি । দেখা নেই বিদেশি লগ্নিরও ।

সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে শুল্কযুদ্ধের জায়গা থেকে সরে আসার জন্য হোয়াইট হাউসকে বলা হবে ।

লক্ষ্য হবে, মার্কিন বাজারের দরজা আরও বেশি করে ভারতীয় পণ্যের জন্য খোলার বন্দোবস্ত করা । একই সঙ্গে মার্কিন লগ্নিকে এ দেশে টেনে আনা ।

অন্যদিকে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জরে ইরান থেকে তেল আমদানির বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে ভারত ।

নয়াদিল্লি চায়, বর্তমানে বিশ্ববাজারে তেলের দামবৃদ্ধির রাশ ওয়াশিংটন বজায় রাখুক ।

জম্মু-কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের সভায় ঝড় তুলতে চলেছে ইসলামাবাদ ।

এ ব্যাপারে আমেরিকা যাতে কোনও ভাবেই পাকিস্তানের পাশে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করাটা সাউথ ব্লকের টার্গেট ।

আপাতত তালিবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ,যা ভারতের স্বস্তির কারণ । ফলে  কিছুটা হলেও গুরুত্ব হারিয়েছে পাকিস্তান ।

তালিবানের হিংসা নীতির আগাগোড়া বিরোধিতা করে আসছে মোদি সরকার । ফলে আফগান প্রসঙ্গে আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে নয়াদিল্লির ।

ওয়াকিবহল মহলের মতে সেি সুযোগকেই হাতিয়ার করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here