।। নয়ন রায় ।।

আমাদের WHATSAPP গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন: Whatsapp

কাশ্মীরের অন্যতম রাজনৈতিক মুখ হিসেবেই পরিচিত তিনি। ইউসুফ সাহেব বা তারিগামি সাহেব নামেই তাঁকে একডাকে চেনেন উপত্যকাবাসী। অনন্তনাগের মতো জঙ্গি উপদ্রুত এলাকায় একখণ্ড লাল জমি তৈরি করে রেখেছে সিপিআই(এম)। সেই কুলগামের ১৪ বছরের বিধায়কের কোনও খোঁজ নেই।

১৯৯৬ থেকে কুলগাম বিধানসভায় বারে বারে নির্বাচিত হয়েছেন ইউসুফ তারিগামি। সর্বশেষ ২০১৪ সালেও তিনি নির্বাচিত হন।

জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ করার পরই উপত্যকার যাবতীয় নেটওয়ার্ক পরিষেবা বিচ্ছিন্ন। শুধু ইউসুফ তারিগামি সাহেব কেন, প্রাক্তন তিন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতির সঙ্গেও কোনওরকম যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে জানা গিয়েছে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে কোনও খবর মিলছে না সি পি আই(এম) বিধায়কের। ৭১ বছরের ইউসুফ তারিগামি কোথায়, কী অবস্থায় রয়েছেন তা জানে না দলের কেন্দ্রীয় দফতর। বারবার তাঁকে ফোন করেছেন বাম শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু সেই ফোন বন্ধ। এরপরেই তাঁদের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ প্রবীণ তারিগামি বিভিন্ন কারণে অসুস্থ। তাঁর ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ঠিকমতো রয়েছে কিনা তাও জানতে পারেননি বাম নেতারা।

জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পরেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে বামেরা। সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি শ্রীনগর গিয়ে তারিগামির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন।

তাঁকে বিমান বন্দরেই আটকে দেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকেই একটি চিঠি তিনি পাঠান গভর্নরকে। তাতে লিখেছিলেন, কী কারণে তারিগামির সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হল না।সেই চিঠি পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

আর স্বাধীনতা দিবসের পর দিনই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ করে বামপন্থী গ্রুপগুলিতে ইউসুফ তারিগামির সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্রের খবর তারিগামি কুলগামে নেই। তিনি শ্রীনগরে আছেন। তিনি কি বিধায়কদের জন্য নির্দিষ্ট ভবনেই রয়েছেন নাকি অন্য কোথাও তাও জানা যাচ্ছে না।

দিল্লিতে বাম নেতৃত্ব যেমন উদ্বিগ্ন তেমনই পশ্চিমবঙ্গ, কেরল ও ত্রিপুরার বাম নেতারাও তারিগামির সর্বশেষ খবর জানতে উদগ্রীব। অনেকেই ফোন করছেন- কিন্তু নীরব সেই ফোন।