পাকিস্তানের জনসভায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র কর্মীদের সঙ্গে হাফিজ

দ্য পিপল ডেস্ক:পাকিস্তানে ফের বন্দি করা হয়েছে মুম্বই হামলার চক্রী তথা লস্কর জঙ্গি প্রধান হাফিজ সইদকে। তাকে বন্দি করা কি লোক দেখানো, উঠছে এই প্রশ্ন। এই জঙ্গি নেতাকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করতে বারবার বাধা দিয়েছে চিন। আর সেই সুযোগে পাক সামরিক গুপ্তচর সংস্থাটি হাফিজের নেতৃত্বে ভারতের আরও এক সীমান্তে নিজেদের ঘাঁটি তৈরি করেছে।

আমাদের WHATSAPP গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন: Whatsapp

একাধিক গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে- ভারত বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র রোহিঙ্গা সংগঠনকে মদত দেওয়ার কাজটি চালিয়ে গিয়েছে হাফিজ। গোয়েন্দা মহলের তথ্য, ভারতের পূর্ব দিকের জটিল ও দুর্গম সীমান্ত এলাকায় নতুন জঙ্গি ঘাঁটি তৈরির নীল নকশা তৈরি করতে বেশ খানিকটা সফল হয়েছে আইএসআই।

তখনও ত্রিপুরায় বামপন্থী সরকার। আর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের একটি মন্তব্য চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে। তিনি বলেছিলেন- তাঁর রাজ্য ও বাংলাদেশ সংলগ্ন আন্তর্জাতিক সীমান্তে জঙ্গি শিবিরগুলি সক্রিয়।

পরে গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে আসে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ লাগোয়া এলাকায় পাক জঙ্গি সংগঠনের মদতে চলতে থাকা বিভিন্ন গোপন শিবিরের কথা। আর ২০১৬ সালে ইন্ডিয়া টুডে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানায়- মায়ানমার ও থাইল্যান্ড সীমান্তে কীভাবে বেড়েছে আইএসআই মদতে জঙ্গি শিবির।

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ পরস্পর সংলগ্ন। এই এলাকায় ছড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গা জনজাতির সঙ্গে বর্মী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সংঘর্ষ নতুন কিছু নয়। সেই রেশ ধরেই গত দু বছর ধরে রাখাইন প্রদেশে বিরাট সেনা অভিযান চালায় মায়ানমার সরকার। উঠে আসে গণহত্যা ও গণধর্ষণের অভিযোগ। লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। সেই রোহিঙ্গাদের মধ্যে জাতিগত ঈর্ষাকে কাজে লাগিয়ে বেড়েছে আরসা (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) জঙ্গি সংগঠন।  এই আরসার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ বাড়িয়ে তুলেছে আইএসআই। পাকিস্তানেই লস্কর জঙ্গি সংগঠনের প্রকাশ্য মুখ জামাত উদ দাওয়ার জনসভায় হাফিজ সইদ ও আরসা জঙ্গি নেতাদের দেখা গিয়েছিল।

শুধু আরাকানের রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সঙ্গে যোগসাজসই নয় বাংলাদেশের মাটিতে বসেই হাফিজ সইদের হুকুমে চলছে জঙ্গি কার্যকলাপ। এর কেন্দ্র চট্টগ্রামের অন্যতম বিশ্ববিখ্যাত পর্যটন স্থল কক্সবাজার। বিভিন্ন সময়ে ঢাকার সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে- কেমন করে মায়ানমার সেনা ও সেখানকার সশস্ত্র বৌদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে গোপন বৈঠক হয়েছে কক্সবাজারে। রোহিঙ্গা সংগঠনের সঙ্গেও এরকমই বৈঠক হয়েছে। সেই সংবাদ প্রকাশিত হতেই নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়ে দেন বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনও জঙ্গি ঘাঁটি থাকতে দেওয়া হবে না। কিন্তু তার পরেও জাতিগত সংঘর্ষের ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ছড়িয়েছে আরসা। তাকেই মদত দিয়ে চলেছে হাফিজ সইদের নেতৃত্বে লস্কর ই তইবা।

ইন্ডিয়া টুডের রিপোর্টে বলা হয়েছে, মায়ানমার ও থাইল্যান্ড সীমান্তের মারিসট এলাকায় জঙ্গি শিবিরের কথা। এখানেই চলছে আইএসআই পরিচালনায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে সশস্ত্র সংগঠন তৈরির কাজ।

সূত্রের খবর, সেখান থেকেই জঙ্গিরা ছড়িয়েছে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম হয়ে উত্তর পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে।  আরও জানা গিয়েছে, উত্তর পূর্বাঞ্চল ভারতের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ও উত্তর বাংলার কেএলও জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা  ট্রেনিং নেয়। জঙ্গি সংগঠনগুলির পারস্পরিক লেন-দেন প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। 

অসমের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম আগেই জানিয়েছে- রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ছড়িয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফা (স্বাধীনতা)। সংগঠনের শীর্ষ নেতা পরেশ বড়ুয়া কখনও চিন ও থাইল্যান্ড সীমান্তে তো কখনও চিন-ভারত-মায়ানমার সীমান্তে শিবিরগুলি পরিচালনা করছে।