।। নয়ন রায় ।।

আমাদের WHATSAPP গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন: Whatsapp

ভাষা বদলাচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির ! বিধানচন্দ্র রায়, প্রফুল্ল ঘোষ, প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্রদীপ ভট্টাচার্য, সুজন চক্রবর্তী, আবদুল মান্নান মায় হাল আমলের মিল্টন রশিদের ভাষাও কোনও দিন শালীনতার সীমা ছাড়িয়েছে বলে শোনা যায়নি । ক্ষমতার ক্ষীর খেতে শালীনতার সীমা ছাড়াচ্ছেন রাজনীতির অনেক কারবারিই!

এই তালিকায় এক নম্বর জায়গা পেতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। দলনেত্রীর আদরের কেষ্ট।নির্বাচনের আগে তিনিই নিদান দিয়েছিলেন গুড় বাতাসা খাওয়ানোর। চড়াম চড়াম ঢাক বাজানোর পরামর্শও দিয়েছিলেন তিনিই।

বাম জমানায় সাদা থান বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হত।চিরকুটে লিখে দেওয়া হত, বিরোধী দল করলে স্ত্রীকে পরতে হবে এই বসন! বাম সূর্য অস্ত গিয়েছে বহু দিন। তবে কোনও কোনও তৃণমূল নেতা বাম ঐতিহ্য বজায় রেখেছেন বলে অভিযোগ।

অশালীন রাজনীতির এই ভাষা ইদানিং শোনা গেল তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠেও। বিজেপি নেতা মুকুল রায়কে কটাক্ষ করতে গিয়ে অভিষেক বলেন, ঘরে নেই নুন, ছেলে আমার মিঠুন। ভাষাবিদদের মতে, অভিষেকের এই উক্তি শালীনতার সীমা ছাড়িয়েছে। দলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রতকেও ছাড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। অন্তত বচনে। মিঠুন যখন কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন বঙ্গের রূপোলি পর্দা, তখন ছোট ছোট ছেলেদের মুখে শোনা যেত এই বুলি। ছেলেবেলায় শেখা সেই বুলি বোধহয় ভুলতে পারেননি অভিষেক !

আপাত দৃষ্টিতে উক্তিটির ঝাঁঝ অনুধাবন করা কঠিন। তবে একটু তলিয়ে দেখলেই বোঝা যায় মানে। যাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি বাংলার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। যিনি বলেছেন, তিনি তাঁর ‘সন্তানের চেয়েও ছোট’। বয়স্কদের সম্মান করতে শেখায় যে ভারতীয় সংস্কৃতি, সেখানে এজাতীয় শিশুসুলভ বুলি না আওড়ালেই বোধহয় ভালো হত !

সামান্য হলেও এজাতীয় বাক্যবন্ধ প্রয়োগে আঘাত করা হয় মিঠুনকেও। নুনের সঙ্গে মিঠুন মেলাতে গিয়ে বাক্যবন্ধের উদ্গাতা আদতে ছোট করেছেন এক মহান শিল্পীকেই ! ভাবখানা এই, যেন ছেলে বলিউডের অমিতাভ বচ্চন কিংবা হলিউডের সিলভাস্টার স্ট্যালোন হলেই ভালো হত, তা নয় কিনা হল মাত্র মিঠুন ! দেশের এক অন্যতম জনপ্রিয় এবং বলিষ্ঠ শিল্পীর প্রতি এই অপমান-সূচক বাক্য প্রয়োগের কি খুব প্রয়োজন ছিল ?

আসলে বদলে গিয়েছে সমাজ। বদলে গিয়েছে রাজনীতির ভাষাও। তাই গোটা দেশেই রাজনীতিতেও এসেছে এক অবক্ষয়। স্বাধীনতার পরে পরে দেশসেবা করতে আসতেন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্বরা। অবক্ষয়ের জমানায় দেশসেবা নয়, আখের গোছাতেই আসেন সিংহভাগ মানুষ। এঁদের বাড়ির কাঁচের আলমারিতে শোভা পায় দেশি-বিদেশি লেখকের উচ্চমার্গের লেখা বইপত্র। তবে সেগুলো কেবলই ঘর সাজানোর উপকরণ মাত্র! তাই মলাট বন্দি বিষয় কোনওদিনই এঁদের মগজে ঢোকেনি। মাতৃভাষাটাও এঁরা ভালো করে শিখেছেন কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে প্রায়ই।

এঁদের কাছে আর কীই বা আশা করা যায়!