দ্য পিপল ডেস্ক- কথাটা একেবারেই ভুল নয় যে বেশির ভাগ মানুষই মনে করেন বর্ষাকাল ঘুরে বেড়ানোর উপযুক্ত সময় নয় । চার দিকে জল-কাদা মাখামাখি, এর মধ্যে ঘোরা যায় না কি! তবে বর্ষার রূপ যারা উপভোগ করতে চান, তাদের ওয়ানস্টপ ডেস্টিনেশনের সন্ধান দিতেই এই প্রতিবেদন ।

আমাদের WHATSAPP গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন: Whatsapp

দিন পাঁচেক থেকে এক সপ্তাহ ছুটি নিলেই ঘুরে আসা যায় । সত্যি কথা বলতে,বর্ষাকাল পর্যটক-মরশুম না হওয়ায় ট্রেনের টিকিট থেকে হোটেল-ভাড়া সবকিছুতেই ছাড় পাওয়া যায়,এমনকি ঘোরাঘুরির জন্য গাড়িভাড়াতেও ছাড় মেলে ।

১.করবেট টাইগার রিজার্ভ  (উত্তরাখণ্ড)

বন্যপ্রাণ যাদের ভালোলাগার হিটলিস্টে রয়েছে তাদের আদর্শস্থান উত্তরাখন্ডের করবেট টাইগার রিজার্ভ । বর্ষার মরশুম হওয়ায় পর্যটকদের ভিড় নেই । ধিকালা, বিজরানি, দুর্গাদেবী, সনানদি, ঢেলা আর ঝির্না – এই চারটি জোনের মধ্যে ঝির্না আর ঢেলা সারা বছরই খোলা থাকে দিনের বেলার জন্য ।

দুটি জোনের গেট হল ঢেলা । কোশী নদীতে র‍্যাফটিং তো বর্ষাতেই সম্ভব । বছরের বাদ বাকি সময়ে তো জলই থাকে না । আয়োজন রয়েছে প্রতি দিন সকাল ও সন্ধ্যায় ৩ ঘণ্টার জিপ সাফারির ।

কী ভাবে যাবেন

কলকাতা, দিল্লি থেকে সরাসরি ট্রেনে মোরাদাবাদ । মোরাদাবাদ থেকে ২ ঘণ্টার ট্রেনে রামনগর । মোরাদাবাদ-রামনগর বাস চলে । গাড়িও ভাড়া পাওয়া যায় । ভারতের যে কোনো জায়গা থেকে ট্রেনে বা বিমানে দিল্লি আসুন । দিল্লি থেকে সরাসরি রামনগরের বাস ও ট্রেন আছে । ট্রেনে হলদোয়ানি বা কাঠগোদাম এসে সেখান থেকেও বাসে বা গাড়িতে গন্তব্য রামনগর । বিমানে দিল্লি গিয়ে সেখান থেকে বাসে বা গাড়িতে যাওয়া যায় রামনগর । রামনগর থেকে ঢেলা ১৬ কিমি । অনলাইনে সাফারি বুক করুন corbettonline.uk.gov.in

কোথায় থাকবেন

রামনগরে রয়েছে কুমায়ন মণ্ডল বিকাশ নিগমের টুরিস্ট রেস্ট হাউস । যোগাযোগ – ০৫৯৪৭-২৫১২২৫। অনলাইন বুকিং – www.kmvn.gov.in । ঝির্না ও ঢেলায় বন দফতরের রেস্ট হাউস বুক করুন অনলাইনে corbettonline.uk.gov.in

২.মান্ডু (মধ্যপ্রদেশ)

সংগীতজ্ঞা সুন্দরী হিন্দু কন্যা রূপমতী আর মুসলিম শাসক সংগীতপ্রিয় বাজবাহাদুরের প্রেমগাথা আজও মান্ডুর আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে রয়েছে । ইতিহাস ও প্রকৃতির মিলনক্ষেত্র মধ্যপ্রদেশের মান্ডু ।

বর্ষায় এর রূপ যেন আরও খোলে । পাশ দিয়ে বয়ে চলা পাহাড়ি নদীর রূপ বর্ষার জলে উপচে পড়ে । জলভরা মেঘ সমতল ছেড়ে ভেসে বেড়ায় মান্ডুর আকাশে । নদী-নালা-লেক জলে টইটম্বুর । অপূর্ব সুন্দরী পাহাড়ি-কন্যা মান্ডুর সবুজের গালিচায় নিজে রোমান্টিক স্বত্তাকে জাগিয়ে তুলুন ।

কী ভাবে যাবেন

ট্রেনে কলকাতা-সহ ভারতের যে কোনও বড়ো শহর থেকে ইন্দোর । সেখান থেকে মান্ডু ৯৫ কিমি । অনেক ট্রাভেল এজেন্সি দিনে দিনে মান্ডু বেড়িয়ে আনে । মধ্যপ্রদেশ ট্যুরিজমও উইকএন্ড ট্যুরে মান্ডু ঘুরিয়ে আনে । তবে মান্ডুতে অন্তত দিন দুয়েক না কাটাতে পারলে মন ভরে না ।

কোথায় থাকবেন

মান্ডুতে মধ্যপ্রদেশ পর্যটনের দু’টি থাকার ব্যবস্থা আছে । মান্ডু মালব রিট্রিট এবং মান্ডু মালব রিসোর্ট । অনলাইন বুকিং www.mptourism.com ।

৩.আগুমবে (কর্নাটক)

চেরাপুঞ্জি তো শিলংয়ে,তবে ‘দক্ষিণ ভারতের চেরাপুঞ্জি’-র নাম জানেন ! না জানলে জেনে নিন কর্নাটকের আগুমবে । যাওয়ার আদর্শ সময় বর্ষাকাল । ভারতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের জায়গা আগুমবে । বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৭৬৪০মিমি ।

কর্নাটকের মালনাড় অঞ্চলের এই গ্রাম ও সংলগ্ন অঞ্চল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভান্ডার – উঁচু পাহাড়, জলপ্রপাত, ঝরনা, নদী আর ঘন সবুজ জঙ্গল । ২১১০ ফুট উঁচু এই অঞ্চলটিতে রয়েছে অসংখ্য ট্রেক রুট । জীববৈচিত্র্যে ভরপুর আগুমবে বহু ওষধি বৃক্ষের আবাসস্থল । তাই এর আরেক নাম ‘হাসিরু হন্নু’ বা ‘সবুজ সোনা’। দেশের একমাত্র রেনফরেস্ট রিসার্চ স্টেশনটি কর্নাটকের আগুমবেতে অবস্থিত ।

কী ভাবে যাবেন

ট্রেনে বা বিমানে বেঙ্গালুরু গিয়ে বাস বা গাড়িতে আগুমবে ৩৮০ কিমি । কাছাকাছি শহর উদুপি, ৫৫ কিমি । কোঙ্কন রেলে উদুপি স্টেশন । মুম্বই থেকে উদুপি ট্রেনে গিয়ে সেখান থেকে বাস বা গাড়িতে আগুমবে ।

কোথায় থাকবেন

উদুপি শহর বা সেখান থেকে ৬ কিমি দূরে মালপে সৈকতে প্রচুর বেসরকারি হোটেল আছে। আগুমবেতে থাকার জায়গা হাতে গোনা । আগুমবে বাস স্ট্যান্ড বাসস্ট্যান্ড থেকে ১০০ মিটার দূরে মাল্য রেসিডেন্সি ।

যোগাযোগ – ০৮১৮১২৩৩০৪২/৯৪৪৮৭৫৯৩৬৩/৯৭৪১১২৩৫৬৭ । অনলাইন বুকিং www.agumbemallyaresidency.com । থাকা যায় আগুমবে রেনফরেস্ট রিসার্চ স্টেশনেও। যোগাযোগ – ০৮১৮১২৩৩১৮৫ ।

৪.গোয়া

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্বর্গরাজ্য গোয়া বর্ষায় যেন আরও মোহময়ী হয়ে ওঠে । পশ্চিমঘাট পাহাড়শ্রেণির কোলের গোয়াকে বর্ষায় দেখে মনে হয়, কে যেন গোটা প্রদেশটাকে সবুজ চাদরে মুড়ে দিয়েছে ।

গাছের পাতায় বৃষ্টির জল, রংবেরঙের ফুলের বর্ণালি । সঙ্গে নাম না জানা পাঝির কূজন মন মাতিয়ে তোলে । আরব সাগরে ঢেউয়ের দোলা মন ভরিয়ে তোলে । আর একটা মস্ত সুবিধা রয়েছে মনসুনে গোয়া বেড়ানোর । হোটেলগুলোতে ছাড় পাওয়া যায় প্রায় অর্ধেক । ১৫ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর গোয়ায় অফ সিজন ।

কী ভাবে যাবেন

কলকাতা থেকে গোয়া এখন সরাসরি বিমান যাচ্ছে । দেশের অন্য মেট্রো শহর থেকে গোয়ার বিমান পরিষেবা আছে । কলকাতা বা দিল্লি থেকে সরাসরি ট্রেনে পৌঁছে যাওয়া যায় মাড়গাঁও । কলকাতা বা দিল্লি থেকে ট্রেনে মুম্বই গিয়ে সেখান থেকেও কোঙ্কন রেলপথে সোজা গোয়া ।

পশ্চিম ভারত তথা দেশের নানা দিক থেকে মিরাজ বা লোন্ডা এসে সেখান থেকে ট্রেনে চলে যাওয়া যায় মাড়গাঁও-ভাস্কো ।মুম্বই থেকে গোয়ার রাজধানী পানাজি পর্যন্ত প্রচুর বাস চলে । এ ছাড়াও মেঙ্গালুরু, পুনে-সহ পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের নানা শহর থেকে বাস সংযোগ আছে গোয়ার ।

কোথায় থাকবেন

গোয়া ট্যুরিজমের হোটেল আছে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও সৈকতগুলোতে। অনলাইন বুকিং goa-tourism.com ।