দ্য পিপল ডেস্কঃ রীতি অনুযায়ী মহাষ্টমীর দিনেই হয় কুমারী পুজো। কুমারী কন্যেকে এদিন দেবী দুর্গা জ্ঞানে পুজো করেন আপামর বাঙালি।বরাবরই কুমারী পুজো দেখতে জয়রামবাটি ও বেলুরমঠে ভি়ড় জমান ভক্তরা। ব্যতিক্রম হল না এবছরও।

পুরাণ তত্ত্ব

শাস্ত্রমতে কুমারী পুজোর উদ্ভব হয় কোলাসুরকে বধ করার মধ্য দিয়ে। কোলাসুর এক সময় স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করায় বিপন্ন দেবতারা মহাকালীর শরণাপন্ন হন। দেবতাদের ডাকে সাড়া দিয়ে দেবী পুনর্জন্মে কুমারীরূপে কোলাসুরকে বধ করেন। এরপর থেকেই মর্ত্যে কুমারী পুজোর প্রচলন শুরু হয়।

দার্শনিক তত্ত্ব

কুমারী পুজোর দার্শনিক তত্ত্ব হল নারীতেই পরমার্থ দর্শন ও পরমার্থ অর্জন। ব্রহ্মাণ্ডে যে  তিন শক্তির দ্বারা প্রতিনিয়ত সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় ক্রিয়া চলছে তা কুমারীর মধ্যেই নিহিত।

কুমারী প্রকৃতি বা নারী জাতির প্রতীক ও বীজ অবস্থা। তাই কুমারী বা নারীতে দেবীভাব আরোপ করে তার সাধনা করা হয়। এই সাধন পদ্ধতিতে সাধক বিশ্বজননী রূপে কুমারীকে দেখেন।

এই ভাবনায় ভাবিত হয়েই শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব নিজের স্ত্রীকে ষোড়শীজ্ঞানে পুজো করেছিলেন। শাস্ত্র মতে কুমারী পুজো হল দেহের শুদ্ধ আত্মার পুজো। আসলে জীবাত্মার মধ্যে পরমাত্মার খোঁজ।

নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ বছর পর্যন্ত মেয়েকে কুমারী হিসেবে নির্বাচন করা যায়। অর্থাত্ রজঃস্বলা হয়নি এমন মেয়েকেই কুমারী হিসেবে পুজো করা হয়।

১ থেকে ১৬ বছরের মেয়েদের দুর্গার এক এক রূপ অনুযায়ী নাম দেওয়া হয়। কখনও অপরাজিতা, কখনও রুদ্রাণী, আবার কখন কালিকা বা উমা নাম দেওয়া হয়।

তবে এরাজ্যে বেলুরমঠের কুমারী পুজোর আলাদা আকর্ষণ। স্বামী বিবেকানন্দের হাত ধরে ১৯০১ সাল বেলুরমঠে কুমারী পুজো শুরু হয়। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here