দ্য পিপল ডেস্কঃ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে একই রাতে তিন তিনটি নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করে হ্যাট্রিক করলো পুলিশ প্রশাসন ও চাইল্ড লাইন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ক্যানিংয়ের সাতমুখী ও বাসন্তী থানার ৬ নম্বর সোনাখালি ও মসজিদবাটীর রামকৃষ্ণপুর গ্রামে।

এদিন রাতে বিয়ের তোড়জোড় প্রায় শেষাগত। নিমন্ত্রিত অতিথী অভ্যাগতরা ও চলে এসেছেন। এসে পড়েছেন বরযাত্রীরাও। জোর কদমে কব্জি ডুবিয়ে বিয়ে বাড়িতে চলছিল ভূরীভোজ।আচমকা ঘটল ছন্দ পতন। হটাৎ বিয়ে বাড়িতে হাজির হলেন পুলিশ প্রশাসনের লোকজন। তাদের দেখে প্রাথমিক ভাবে হুলুস্থুল পড়ে যায় বিয়ে বাড়িতে। পাত্রীর বয়স জানতে চান প্রশাসনের আধিকারিকরা।

কনে সেজে বসে থাকা পাত্রীর জন্ম সার্টিফিকেটে দেখা যায় সতেরো বছর বয়স হয়েছে সবে। কেন অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ে দিচ্ছেন? প্রশাসনের আধিকারিকদের এই প্রশ্নের জবাবে মুখে কুলুপ আঁটেন পরিবারের লোকেরা। নাবালিকা মেয়ের বিয়ে দিলে কি কি ক্ষতিকর দিক রয়েছে সেগুলি সেই সময় বিয়ে বাড়িতে হাজির সকলকেই বোঝান তাঁরা। পাত্র পক্ষ প্রশাসনের আধিকারিকদের কথা শুনে নাবালিকা মেয়ের সাথে বিয়ের বিষয়ে অস্বীকার করেন।

অবশেষে নাবালিকার পরিবারের লোকেরা মুচলেকা দেন, সাবালিকা অর্থাৎ ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত কোন ভাবেই মেয়ের বিয়ে তারা দেবেন না। এ বিষয়ে ক্যানিং চাইল্ড লাইনের সদস্য বান্টী মুখার্জী বলেন ”এদিন রাতে আমাদের কাছে গোপন সুত্রে খবর আসে বাসন্তী ও ক্যানিং থানা এলাকায় তিন তিনটি নাবালিকার বিয়ে হচ্ছে।

খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ প্রশাসন কে সাথে নিয়ে আমরা ঐ নাবালিকার বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি বিয়ের সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। বরযাত্রীরা ও চলে এসেছেন। সকলকে বোঝাই নাবালিকা বিয়ের কুফল। এর পরেই ওনারা একটি মুচলেকা দেন। আঠেরো বছর না হলে মেয়ের বিয়ে দেবেন না বলেও কথা দেন তারা”।