প্রতীকী ছবি

দ্য পিপল ডেস্কঃ করোনা আবহে ভীত ও সন্ত্রস্ত রাজ্যবাসী। এই পরিস্থিতিতে বাংলা থেকে নার্সদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কয়েকটি রাজ্য।


এর ফলে রাজ্যে নতুন স্বাস্থ্যসঙ্কট দেখা দিয়েছে। মনিপুর, মিজোরাম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ, ত্রিপুরা, ওড়িশা এবং ঝাড়খন্ড নিজেদের রাজ্যের বাসিন্দাদের ফিরিয়ে নিচ্ছেন যাঁরা কলকাতার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নার্সের কাজ করেন।


নার্সের একটা বিশাল সংখ্যা ইতিমধ্যেই হাসপাতালে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁরা নিজেদের রাজ্যে ফিরে যেতে চাইছেন।


এঁদের মধ্যে বেশ কিছু নার্স জানিয়েছেন, তাঁদের রাজ্য সরকার রাজ্যের হাসপাতালেই কাজের নিরাপত্তার দায়িত্ব দিচ্ছে। সেই কারণে ফিরতে চাইছেন তাঁরা।


আবার একজন নার্স জানিয়েছেন, মনিপুর সরকারের কাছ থেকে ভালো অফার না পেলেও তিনি ফিরবেন না।


কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করতেন করুণা রাই। ইতিমধ্যেই তিনি ফিরে গেছেন মনিপুরে।


মনিপুর থেকে তিনি ফোনে জানান, মনিপুর সরকারের কাছ থেকে তিনি কোনও অফার পাননি। পদত্যাগ করার অন্যতম কারণ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা।


সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে কলকাতার বেসরকারিল হাসপাতালের প্রায় ৫০০ নার্স ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন।


এই বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, নার্সদের এই গণপদত্যাগের পর রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ ভেঙে পড়বে।


উল্লেখ্য, কলকাতার একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে থাবা বসিয়েছে করোনা। সংক্রমণের শিকার হয়েছেন বহু চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরাও।


পিয়ারলেস হাসপাতাল, চার্ণক হাসপাতাল সহ একাধিক হাসপাতাল কয়েকদিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। এই কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নার্সরা।


বেসরকারি হাসপাতালের নার্স করুনা রাই জানিয়েছেন, কাজের সূত্রে তিনি কলকাতাতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকেন। তাঁর হাসপাতালে সংক্রমণ হওয়ার কথা জানাজানি হতেই অনেক প্রতিবেশী তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন।


বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই আপাতত নিজের রাজ্য মনিপুরে ফিরে যেতে চান তিনি। হাসপাতালে নিজের ইস্তফাপত্র দিয়েছেন।


ইস্তফা দিয়েছেন এমন অনেক নার্সের বক্তব্য, তাঁরা ফের কাজে যোগ দিতে পারেন যদি তাঁদের সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দায়িত্ব নেওয়া হয়।


সূত্রের খবর, মনিপুরের ফিরে যাওয়া নার্সদের মধ্যে অনেকেই কলকাতায় ফিরতে চান। কিন্তু তার আগে নিজেদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চান।


ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার হাসপাতাল অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি রূপক বড়ুয়া সমস্যা সমাধানের জন্য মুখ্য সচিবের কাছে আবেদন করেছেন।


অন্যদিকে মনিপুর সরকারের দাবি, রাজ্যের পক্ষ থেকে নার্সদের ফিরে আসতে বলা হয়নি। তবে কাউকে কাজ করতে বাধ্য করা যেতে পারে না।