দ্য পিপল ডেস্কঃ  মুখে নেই মাস্ক, হাতে নেই তরল সাবান। শরীরে নেই অন্য কোনও সুরক্ষার বস্ত্র।  অন্যদের সুরক্ষিত রাখতে প্রতিটা বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন কর্মীরা।

সরকারি নির্দেশ মেনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অঙ্গওয়াড়ি, আশা ও স্বাস্থ্য দপ্তরের  কর্মীরা যাচ্ছেন এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে বাড়িতে। খবর নিতে হচ্ছে বাইরে থেকে কেউ বাড়িতে ঢুকেছে কিনা।

বিদেশ থেকে কেউ আসল কিনা। কারও  জ্বর, সর্দি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হল কিনা।  করোনা রুখতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তাঁরাও। কিন্তু সুরক্ষা কোথায় তা নিয়ে উঠছে বিস্তর প্রশ্ন।

রাজ্য সরকার যখন বলছে, মাস্কের কোনও রকম সমস্যা হবে না তখন মাস্ক ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই সমস্ত কর্মীরা। আক্রান্ত হলে কি করবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না কেউই। সবই ছেড়ে দিয়েছেন ঈশ্বরের দয়াতে।

সরকারি নির্দেশ মেনে বন্ধ হয়ে গেছে স্কুল কলেজ এবং আইসিডিএস সেন্টার। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে আইসিডিএস সেন্টারগুলি বন্ধ থাকলেও কর্মীদের প্রতিনিয়ত উপস্থিত হতে হচ্ছে সেন্টারে ও নিজস্ব এলাকায়।

চাল, আলু সহ অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দিতে হচ্ছে বাড়িতে বাড়িতে। শুধু পৌঁছে দিয়ে ক্ষান্ত থাকছেন না তাঁরা। যে এলাকায় তিনি কাজ করছেন সেই সমস্ত এলাকায় ঘুরে প্রতিটি বাড়িতে চালাচ্ছেন নজরদারি।

কারণ বাইরে থেকে যখন কেউ আসছে তখন করোনা ভাইরাসের জীবাণু বহন করেই ঢুকে পড়ছে এলাকাতে এমনটাই দেখা গেছে এতদিন।

সেই রকম কিছু যাতে এলাকায় না ঘটে তাই জন্য সদা সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন এইসব আইসিডিএস কর্মীরা এবং আশা দিদিমনিরা। সঙ্গে সহযোগিতা করছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের অন্যান্যরা।

তবে যাঁরা অন্যদের সচেতনতার জন্য নিজেদের প্রাণপাত করছেন সেই সমস্ত কর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে কোনোরকম হেলদোল নেই প্রশাসনের। কারণ তাঁরা যেটা করছেন সেটা পুরোপুরি জীবনের ঝুঁকি নিয়েই করছেন।

এই বিষয়ে এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী জানান,আমরা সরকারি নির্দেশ পালন করছি। কিন্তু মাস্ক হ্যান্ডগ্লাভস কোনও কিছুই আমাদের দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে আমরা পুষ্টিকর খাবার বিলি করে আসছি। কোনও বাড়িতে বাইরে থেকে কেউ এলে সঙ্গে সঙ্গে ফর্ম ফিলাপ করে জানানো হচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তরে।  এত কিছু করছি কোনও সুরক্ষা ছাড়াই।  কিন্তু আমরা আক্রান্ত হলে যাব কোথায় জানি না।

জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় তৈরি করা হয়েছে টাস্কফোর্স। বানানো হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম।

প্রতিটি ব্লক এলাকায় সেই কুইক রেসপন্স টিম কাজ করে চলেছে। কিন্তু উঠছে সুরক্ষা নিয়েই প্রশ্ন। কারণ শুধু গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানো অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বা আশা কর্মীদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটছে তা নয়, হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের অনেকেই দেখা যাচ্ছে নুন্যতম শারীরিক সুরক্ষা ছাড়াই স্বাস্থ্য পরিষেবার কাজ করে যাচ্ছেন।

জেলাশাসক পি উলগানাথান বলেন, স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানানো হয়েছে প্রত্যেক স্বাস্থ্য কর্মী সহ যাঁরা ফিল্ডে কাজ করছেন তাঁদেরকে করোনা প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে সমস্ত কিছু উপাদান দেওয়ার জন্য।

তবে এখনও সবার কাছে সেই পরিষেবা পৌছায়নি । খুব শীঘ্রই দেওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।