দ পিপল ডেস্কঃ স্রেফ ফুটপাথেই কেটেছে জীবনের চব্বিশটা বছর। ছোটবেলাটায় আস্তানা অবশ ছিল একটা। কিন্ত বাবা মারা যাওয়ায় ভাড়া না দিতে পারায় জুটেছিল বাড়িওয়ালার গলাধাক্কা। তারপর ঠিকানা হল কেয়ার অব ফুটপাথ। যদিও তার আগেই পাট চুকেছে পড়াশোনায়। ফুটপাথেই শুরু নতুন জীবন।

ভোজনং যত্রতত্র, শয়নং হট্টমন্দিরে। কোনওদিন খাওয়া জোটে তো, কোনওদিন রাস্তার কলের জল খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়া।সকাল হলেই কাজের খোঁজে বেরিয়ে সব জায়গা থেকে ঘাড়ধাক্কা। এমনই করতে করতে শেষমেশ জুটে গিয়েছিল একটা কাজ। কিন্তু তার স্থায়িত্ব বেশিদিন নয়। সেখানকার কাজ চলে যাওয়ার পর ফের বেকার।

এভাবেই কেটে যাচ্ছিল দিনগুলো। তবে স্কুলে পড়ার সময় টুকটাক লেখালেখির অভ্যাসটা রয়ে গিয়েছিল নীলু চক্রবর্তী নামে ওই ফুটপাথবাসীর। রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে কাদা, তখন লুকিয়ে লুকিয়ে লিখে যাচ্ছিলেন একটা লেখা। ততদিনে একটা নিরাপত্তা রক্ষীর চাকরি জুটেছে নিউ আলিপুরের আবাসনে।

এখন আর ফুটপাথে থাকেন না তিনি। থাকার ববস্থার পাশাপাশি খাওয়াটাও মোটামুটি নিশ্চিত।রাতে সময় পেলে খসখস করে লিখে চলেন লেখার বাকি অংশটা। শেষমেশ শেষ হল লেখাটা।উপন্যাসই লিখে ফেলেছেন একদা ফুটপাথবাসী। কিন্তু তাঁর মতো তুচ্ছ মানুষের লেখা কেই বা পড়বে!

তবে শেষপর্যন্ত দেখা মিলল এক শুভানুধ্যায়ীর। তিনি খুঁজে দিলেন এক মহানুভব প্রকাশককে। অবশেষে বই হয়ে বের হল উপন্যাসটি । নাম- সময় তোমাকে। এরপর সেই শুভানুধ্যায়ীর উদোগেই নীলুর দুটো গল্প ছাপা হল প্রাক শারদীয়া সংখ্যায়। যা একেবারে অভাবনীয় একদা ফুটপাথে রাত কাটানো যুবকটির। তারপর থেমে থাকেনি তাঁর লেখালেখি।

তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ডেকে নিয়ে যায় বেহালার শিশু-কিশোরদের নামী পত্রিকা-মুক্ত আলো। তাঁর লেখা পড়ে বাহবা জানিয়েছেন ডাকসাইটে ছড়াকার ভবানীপ্রসাদ মজুমদার, সুদেব বক্সির মতো কবিরা। নীলু স্বপ্ন দেখেন একদিন তাঁর লেখা গল্প-উপন্যাস নামী প্রতিষ্ঠিত পত্রিকাগুলো।

শীষেন্দু মুখোপাধায়ের ভক্ত জানালেন, আমি লেখা থামাতে চাই না। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত লিখে যেতে চাই।

নীলুর জন রইল আমাদেরও শুভেচ্ছা।        

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here