দ্য পিপল ডেস্কঃ রোমাঞ্চকর এক কাহিনী নিয়ে আসছে মেগা ধারাবাহিক।

ম্যানেজার অভিজিত দে’ র এসকেএইচ মুভিস প্রোডাকশনে, সুমন কুমার হালদারের পরিচালনায় আসছে ‘অগ্নি’।

মানুষের চেতনার অগ্নি।

মানুষের আকাঙ্ক্ষার অগ্নি।

এই বিষয়বস্তুতে ১৭ শতক থেকে ১৮ শতকের সময় কালের কথা বলা হয়েছে।

অর্থাৎ রাজা রামমোহন রায়ের সময়কাল, ডিরোজিও-এর সময়কাল।

সে সময় বাংলাদেশের সমাজ জীবনে ব্রাহ্মণ্যবাদ ছিল, আবার ইসলাম ধর্মের ধ্বজাধারী দলও কম ছিল না।

এই ধ্বজাধারী দল মিলে সমাজ জীবনকে টুঁটি টিপে ধরে ছিল।

তৎকালীনযুগে মেয়েদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত খারাপ।

মেয়েরা বাড়ির বাইরে বের হতো না। পড়াশোনা তো দূরের কথা।

এমত অবস্থায় সেই সময় রাজা রামমোহন রায় এবং হেনরি লুই ভিভিয়ান ডেরোজিও

একটা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

যেটা ছিল ইয়ং বেঙ্গল মুভমেন্ট।

এই ইয়ং বেঙ্গল মুভমেন্ট প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে এটা ছড়িয়ে পড়েছিল।

যার ফলে ছেলেমেয়েরা শিক্ষার প্রসার ঘটে।

কিন্তু প্রথম আগুন জ্বলে ছিল সেই ১৮ শতকের বাংলার সমাজ জীবনে।

সেই সমাজ জীবনের চিত্র কেমন ছিল, কিরূপ অবস্থাতে সমাজে নারী পুরুষ বসবাস করত, তাদের কর্মজীবনই বা কেমন ছিল. এসব নিয়ে আসছে অগ্নি।

সেই পরিপ্রেক্ষিতে এক রোমাঞ্চকর কাহিনী দর্শকের সামনে নিয়ে আসছেন পরিচালক সুমন কুমার হালদার।

অন্যদিকে স্ক্রিপ্ট রাইটার পিনাকী রঞ্জন হালদার বলেন, তখনকার সমাজ জীবনে মেয়েদের কোনও ভাবনার জায়গা ছিল না।

সেই ভাবনার জায়গাটা তাদের মধ্যে ধীরে ধীরে জ্বালানো হল, সেই আগুন শহর থেকে শহরাঞ্চল, গ্রামগঞ্জে আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পরল, যার ফল আজ আমরা লাভ করছি।

এই প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, আমরা নতুন প্রজন্মের মধ্যে একটা ভাবনার বীজ বপন করার চেষ্টা করছি।

অগ্নি জ্বলেছিল ঠিকই, কিন্তু সেই অগ্নি টাকে আরো বেশি করে জ্বালিয়ে রাখতে হবে।

উত্তরণ থেকে আরও উত্তরণ ক্রমশ আরো উত্তরণের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এই প্রজন্মকে।

তবে গিয়ে আমাদের সমাজ জীবন একটা সার্থক সমাজ সচেতন জায়গায় গিয়ে পৌঁছবে।

ওই সময় যে উত্তরণ হয়ে গেছে আর তার উত্তরণ দরকার নেই সেরকম নয়।

উত্তরণ কিন্তু এক জায়গায় থেমে থাকে না।

উত্তরণ ক্রমশ আরো বেশি উত্তরণ হয়।

সুতরাং এই সমাজ জীবনকে মাথায় রেখে আমাদের বর্তমান প্রজন্মের যে যুবক-যুবতী সমাজ তাদের উপর এই দায়িত্বটা ন্যস্ত করা থাকবে।

মেগা ধারাবাহিকের প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুদেষ্ণা সিং ও জিতু দাস।

ধারাবাহিকের গল্প নিয়ে উভয় সন্তুষ্টির কথাই জানালেন।

বললেন, অন্যতম একটি ভালো লাগার একটি প্রজেক্ট ‘অগ্নি’।

ধারাবাহিক নিয়ে পরিচালক সুমন কুমার হালদার বলেন, নতুনদের সুযোগ দিলেই তাঁরা নিজেদের মধ্যেও প্রতিভা প্রমাণ করতে পারবে।

এজন্য সবার উচিত তাদের কথা ভাবনায় রাখা।

জানি না কেন, আমাদের এখানে অনেকে নতুনদের সঙ্গে কাজ করতে ভয় পায়।

ওদের সুযোগ না দিলে প্রমাণ করবে কীভাবে? আমিও বলি, ওদের দিয়ে অভিনয় করান।

ওদের তৈরি করতে হবে। সেজন্য যতটা পারি নতুনদের খোঁজ নিই।

এই মেগা ধারাবাহিকে গুণী শিল্পীদের নিয়ে যেমন কাজ করছি, তেমনি নতুন শিল্পীদের নিয়েও কাজ করতে আমার কোনও অসুবিধা হচ্ছে না ।

তিনি আরো বলেন ‘বাস্তব জীবনে চরিত্রগুলো আমাদের আনন্দ দিয়ে থাকে।

সেই চরিত্রগুলোর গল্প নিয়েই এই ‘অগ্নি’ ।

এটি দর্শকদের পছন্দ হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

বিভিন্ন চরিত্রে এতে আরও অভিনয় করছেন ছন্দা চ্যাটার্জী, পিকে মুখার্জি, সোমা দে, অনন্যা দাস, অঙ্কিতা নস্কর, শিশু শিল্পী জয়, অতুল রায়, পূজা বিশ্বাস, অভিজিৎ রায় চৌধুরী, সুচরিতা রং আরো অনেকে।

এ প্রসঙ্গে ডাইরেক্টর রিও বলেন, এতে নতুন এবং পুরনো আর্টিস্টরা খুব ভালোই পারফর্ম করছেন।

অল্প সময়ের মধ্যে তারা ধরে নিচ্ছেন যে কিভাবে দর্শকের সামনে সেরাটা প্রেজেন্টেশন করবে।

আমরা দিন–রাত শুটিং করেছি এই ধারাবাহিকটির জন্য।’

কলিকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার গ্রামেগঞ্জের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে শুটিং হচ্ছে পুরোদমে।

প্রথম ও দ্বিতীয় লটের শুটিং শেষ এবার তৃতীয় ধাপের শুটিংয়ের অপেক্ষায়।