দ্য পিপল ডেস্কঃ করোনা আবহে বন্ধ স্কুল, কলেজ, অফিস। কিন্তু কাজ চলছে বাড়িতে বসেই। আর এই কাজই ডেকে আনছে বিপদ। লকডাউনের কারণে অফিস যেতে না হলেও বাড়িতে বসে কাজ করতে হচ্ছে অনেককেই। ফোন বা ল্যাপটপ হয়েছে সঙ্গী।

ঘরে বসে কাজ করা বেশ আরামের মনে হলেও আদতে তা নয়। ঘরে বসেই কাজ করতে গিয়ে বাড়ছে ঘাড়ে কোমরে ব্যথা। কিন্তু কিভাবে?

স্মার্ট ফোন এবং ল্যাপটপ আজকাল প্রত্যেকের জীবনে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু লকডাউন চলাকালীন এই জিনিসগুলো ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়েছে। শুধু যুবসমাজ নয়, সব বয়সের মানুষের এই সময় স্মার্টফোন বা ল্যাপটপেই কাজ চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ফোন বা ল্যাপটপে ঘাড় গুঁজে কাজ করতে হচ্ছে। লকডাউনের চতুর্থ দফায় এসে পরিস্থিতি আরও সঙ্গীন হয়ে উঠেছে। অফিসে কাজ করার সময় বসে কাজ করতে হতো টেবিল-চেয়ারে। মাঝে উঠে কোমরের আড় ভাঙার সুযোগ ছিল। তাছাড়া ট্রেন, বাস চড়াতেও নড়াচড়ার সুযোগ ছিল।

না চাইতেও শরীরের কিছুটা ব্যায়াম হতো।পাশাপাশি এদিক ওদিক যাওয়া থেকে সিঁড়ি ভাঙা সবটাই হত অফিসের কারণে। এতে শরীর  সচল থাকত। কিন্তু বর্তমানে বাড়িতে থেকে হাঁটা-চলা কম হচ্ছে, যত আরামে কাজ করা হচ্ছে ততো চাপ পড়ছে শরীরে। আবার জিম সেন্টার বন্ধ থাকায় জিমে গিয়েও কসরত করা হচ্ছে না। 

এক কথায় অচল হয়ে পড়ছে শরীর। আর এতেই বাসা বাঁধছে বিভিন্ন সমস্যা।

প্রখ্যাত অর্থোপেডিক সার্জেন ডিভি শর্মা বলেছেন, করোনার কারণে অন্যান্য শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা কম হওয়ায় ঘাড়ে ব্যথার সমস্যা বেড়েছে। অনেকের অভিযোগ লকডাউন এ বাড়িতে কাজ করতে করতে ঘাড় ও পিঠে ব্যাথার সমস্যা দেখা দিয়েছে।

প্রবীণ অর্থোপেডিক সার্জন আগারওয়াল বলেছেন, এটি একটি জটিল সমস্যা। দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে কাজ করতে গিয়ে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়।লকডাউন উঠতে এখনও বেশ দেরি।

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঘরে বসেই ওয়ার্ক আউট করুন। নিয়মিত সকাল বিকেল ঘরে বা বাড়ির উঠোনে বা ছাদে হাঁটুন। ডক্টর সব্বারওয়াল বলেছেন, যদি হাতের তালুও বেশি অবশ হয়ে আসে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।