বুলটি পাল, নামখানা : বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ সুন্দরবন। প্রতিমুহূর্তে প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে সামাল দিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে সুন্দরবনের মানুষদেরকে।


৬৩ লক্ষেরও বেশি মানুষের বসবাস এই বৃহত্তম ব-দ্বীপে। প্রাকৃতিক ঝড়ঝঞ্ঝার পাশাপাশি জীবন বিপন্ন করে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় সুন্দরবনের বাসিন্দাদের।


তাই গাছ লাগানোর একটা প্রচেষ্টা সুন্দরবনের মানুষদের মধ্যে প্রায় সময় দেখা যায়।


‘গাছ লাগান দেশ বাঁচান’ সর্বক্ষণ এই স্লোগানে বুঁদ হয়ে রয়েছেন সুন্দরবনের মানুষ। নামখানা ব্লকের শিবরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত গাছ লাগাচ্ছে রাস্তার দুই পাশে।


শিবরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দাসের লাট ঘেরির রাস্তাঘাটের দুইপ্রান্তে সারিবদ্ধ ভাবে গাছ লাগানো হচ্ছে।


এই গাছ লাগানো কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এলাকার মহিলারা। তাদের এই নিপুণ হাতের সারিবদ্ধ ভাবে গাছ লাগানো রাস্তাঘাটকে করেছে আরও সুন্দর।


২০০৯ সালের ২৫ মে ভয়ঙ্কর আয়লার ঝাপটায় তছনছ হয়ে গিয়েছিল সুন্দরবনের জনপদ।


পাশাপাশি ২০১৯ দাপট দেখিয়ে ক্ষয়ক্ষতি করেছিল ফণী।


আবার বুলবুল কোনও বাধা না মেনে সজোরে দাপট দেখিয়ে হানা দিয়েছিল সুন্দরবনে।


বাড়িঘর,গাছপালা ভেঙে ধুলিস্যাৎ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে দিয়েছিল। বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে অস্তিত্ব সংকটে সারাক্ষণ ভুগছে সমগ্র সুন্দরবন।


সেইসব ক্ষত এখনও অবধি শুকায়নি। বাঁচার জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর মহামারী ভাইরাসের সঙ্গে সুন্দরবনের বাসিন্দারা যখন সমানতালে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই অদৃশ্যের কালো মেঘের মতো ভীতির সঞ্চার জাগিয়ে ২০ মে সুপার সাইক্লোন ঘুর্ণিঝড় আম্ফান।


সেই আম্ফান আছড়ে পড়েছিল সুন্দরবনের বুকে। নামখানা ব্লকে প্রচুর গাছপালা, বাড়িঘর ভেঙে তছনছ করে দিয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারত যদি ম্যানগ্রোভ বা অন্য গাছপালা না থাকত।


প্রাকৃতিক বিপর্যয় আবারও আসতে পারে, তার থেকে তাই অনেক বেশি গাছ লাগাতে হবে।


রাজ্য সরকারও স্থানীয় মানুষদের উৎসাহ দিচ্ছেন গাছ লাগাতে। পঞ্চায়েতও সেই কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছে।