বিরোধী ঐক্যে ফাটল, হাসি চওড়া হচ্ছে বিজেপির

0
100

গৌতম ভট্টাচার্য

এখনও একদফা নির্বাচন বাকি। তার আগেই বিরোধী ঐক্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। যার জেরে মুচকি মুচকি হাসছেন বিজেপি নেতারা।

চলতি বছর সাত দফায় হচ্ছে লোকসভা নির্বাচন। ১৯ মে হবে শেষ দফার ভোটগ্রহণ। তার পরেই বিরোধী নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসতে চেয়েছিল কংগ্রেস। প্রথমে সবাই বৈঠকে যোগ দেবেন বলে ঠিক ছিল। ষষ্ঠ দফার নির্বাচন শেষে বেঁকে বসেছেন দুই নেত্রী। একজন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যজন বিএসপি নেত্রী মায়াবতী। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও ওই বৈঠকে থাকছেন না বলে সূত্রের খবর। এই তিন আঞ্চলিক দল যোগ না দিলে, বৈঠকের ভবিষ্যত কী, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

গত সপ্তাহে খড়গপুরে তৃণমূলের একটি সভায় যোগ দিয়েছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু। মমতার সঙ্গে দেখা করার আগে তিনি বৈঠক করে এসেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধির সঙ্গে। দিল্লির বৈঠক নিয়ে কথা উঠতেই মমতা জানিয়ে দেন নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে বৈঠকের কোনও প্রয়োজন নেই। মায়াবতীও ফল ঘোষণার আগে বৈঠকে যোগ দিতে আগ্রহী নন বলেও খবর।


রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মমতা ও  মায়াবতীর দল এবার ভালো ফল করবে বলে দুই দলের রিপোর্টে প্রকাশ। ফল ঘোষণার আগে বৈঠকে বসলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, সেই প্রশ্নও উঠবে। সেখানেই দেখা দেবে সমস্যা। অন্য বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রী হতে না চাইলেও, মমতা ও মায়াবতী চান। যদিও ডিএমকে প্রধান স্ট্যালিন সহ বিরোধী দলগুলির সিংহভাগ নেতাই প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চান রাহুল গান্ধিকে।

লোকসভা নির্বাচনের আগে উত্তর প্রদেশে জোট গড়তে উদ্যোগী হয়েছিলেন রাহুল। তখনই কংগ্রেসকে বাইরে রেখেই জোট গড়েছেন মায়া-অখিলেশ। কয়েকটি সমীক্ষায় কংগ্রেসের জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ জানতে পেরেই মায়া-মমতা কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করে বলে সূত্রের খবর। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নির্বাচনে কংগ্রেস ভালো ফল করলে, তবেই সরকার গড়তে তাদের সমর্থন করবে এই দুই দল। আর যদি ফেডারেল ফ্রন্ট সরকার গঠনের দিকে এগোয়, তখন প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার হবেন মায়া-মমতা। সেই কারণেই এই দুই প্রধান ফল ঘোষণার আগে দিল্লির বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না। জল মাপতে চাইছেন অখিলেশও।তাই সম্ভবত তিনিও ওই বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না।

তবে বিরোধীরাই যে এবার সরকার গড়ছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত রাহুল। সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে মায়াবতী সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশে অবদানের জন্য আমি তাঁকে সম্মান করি। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই রয়েছে। তবে তার পরেও আমি তাঁকে সম্মান করি, ভালোবাসি। যদিও এতে সম্পর্কের বরফ কতটা গলবে, তা বলবে সময়।

এদিকে বিরোধীদের এই ছবিই হাসি ফোটাচ্ছে বিজেপির। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তখত নিয়েই লড়াই হবে বিরোধীদের। এটা আমরা আগেও বলেছি। এখনও বলছি।






LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here